অনলাইন রিপোর্টার
টানা ১৫ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান। তার আগমনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি নেই। গত ১৩ নভেম্বর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ে এবং বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, তার অবস্থা সংকটময়। পরে পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
দিনের বেলায় হাসপাতালের সামনে সাধারণত বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও রোববার দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। নেতাকর্মীদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। শুধু হাসপাতালের সামনের সড়কে কিছু পথচারীকে থেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। এদিকে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা নিয়মিত অবস্থান করছেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও সিসিইউ-সংলগ্ন করিডোরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন ধরনের সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সংক্রমণ রোধে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিনই অবস্থার আপডেট পর্যালোচনা করছে।
জানা গেছে, খালেদা জিয়া কিছু ওষুধ গ্রহণ করতে পারছেন, তবে চিকিৎসকরা এখনো তাকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করতে পারেননি। মেডিকেল টিম বলছে, তার ফুসফুসের ইনফেকশন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমান লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা বলছে, প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও বিদেশ নেওয়ার বিষয়ে গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তার চিকিৎসায় সরকারের সহযোগিতার বিষয়েও মন্তব্য এসেছে। কিছুদিন আগে প্রেস সচিব জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করছে।
হাসপাতালের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, ভিড় কম থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিএনপির কিছু নেতাকর্মী হাসপাতালে না এলেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং অবস্থার আপডেট জানছেন। রাজনৈতিক নেতারা খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনা করে বিভিন্ন জায়গায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছেন।
সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কিছুটা বাড়লেও কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। হাসপাতালে অবস্থানরত সাংবাদিকরা জানান, সিসিইউ-এর সামনে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং পরিবারের অনুমতি ছাড়া কাউকে সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
আকাশজমিন /
আরআর