ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে গলা কেটে হত্যা


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:০৭ পিএম

রংপুর প্রতিনিধি 

রংপুরের তারাগঞ্জে এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা স্থানীয় জনমনে তীব্র শোক ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) গভীর রাতে কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার স্ত্রী সুর্বণা রায় (৬০)। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হয়। পরে মই বেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে প্রথমে ঘরের ভেতর কাউকে না দেখে প্রধান দরজা খুলে প্রবেশ করেন। এরপর ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায়ের রক্তাক্ত মরদেহ এবং রান্নাঘরে সুর্বণা রায়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী দীপক চন্দ্র রায় জানান, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়ির দেখভাল করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালেও তিনি কাজ করতে যান। তবে সকাল ৭টা পর্যন্ত ঘর থেকে কেউ বের না হওয়ায় সন্দেহ হয়। ডাকাডাকি করেও কোনো শব্দ না পাওয়ায় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, “ভেতরে ঢুকে খুব ভয়াবহ দৃশ্য দেখি। ডাইনিং রুমে দাদুর দেহ পড়ে আছে। রান্নাঘরে দিদা রক্তাক্ত অবস্থায়।” তার ধারণা, গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে কাউকে সুযোগ না দিয়ে হত্যাকারীরা তাদের হত্যা করে চলে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় ছিলেন একজন সৎ ও সম্মানিত শিক্ষক। তিনি ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে—বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় জয়পুরহাটে চাকরি করেন এবং ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশ সদস্য হিসেবে কর্মরত। গ্রামে শুধু স্বামী-স্ত্রী দুজনই বসবাস করতেন। হত্যাকাণ্ডের সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে। তাদের মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সম্প্রদায়ও গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন এবং পুলিশের কর্মকর্তারা। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন বলেন, “এভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে হত্যা করা জাতির জন্য লজ্জার। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

তারাগঞ্জ থানার এসআই মো. আবু ছাইয়ুম জানান, প্রাথমিকভাবে দুজনের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। কে বা কারা, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে—অতি দ্রুতই আমরা তা বের করতে কাজ করছি।”

অপরদিকে এলাকাবাসীর দাবি, নিঃসন্তান দম্পতি হওয়ায় তারা সব সময় নির্ভারভাবে চলাফেরা করতেন এবং শত্রুতার কোনো খবর আগে জানা যায়নি। তবে বাড়ির ভেতরের কিছু জিনিসপত্র এলোমেলো পাওয়া গেছে, যার কারণে অনেকের ধারণা এটি পরিকল্পিত ভাবে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড ও সম্ভবত ডাকাতি বা পুরোনো কোনো বিরোধও এর কারণ হতে পারে। পুলিশ সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

স্থানীয়দের মতে, যোগেশ চন্দ্র রায় মুক্তিযুদ্ধের সময় সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন এবং এলাকাজুড়ে একজন সৎ মানবিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নির্মম মৃত্যু স্থানীয়দের বিবশ করে তুলেছে। তারা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর