আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আয়নাঘর বা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) নিয়ে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। এই সেলে বন্দিদের রাখা হত নিকৃষ্ট ও অমানবিক পরিবেশে, যেখানে ২৫ জন বন্দিকে ভাগ করে নেওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটি টুথব্রাশ দেওয়া হত। সেখানে ছিল না আলো, বাতাস বা জানালা। শুধু বিকট শব্দ ও অন্ধকার।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানি চলাকালে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ডিজিএফআই সদর দপ্তরের দক্ষিণ পাশে মেস-বি ভবনের মাঝখানে একটি ছোট্ট দোতলা ভবনে বন্দিশালা ছিল, যেখানে মোটা রডের গ্রিল এবং ঢাকনা লাগানো ছিল। সেলগুলোর ভিতরে আলো বা বাতাসের ব্যবস্থা ছিল না, বরং সিসি ক্যামেরা ও ছোট ভেন্টিলেটর ছিল।
সেলগুলোর ভেতরে আজানের মতো পবিত্র শব্দ শোনা না যাক এবং বাইরে থেকে কোনো আওয়াজ যেন বন্দিরা শুনতে না পান, সে জন্য ২০-২৫ জন বন্দির জন্য একসঙ্গে একটি ব্রাশ দেওয়া হত এবং মুখ মুছতে ব্যবহৃত হত নোংরা গামছা। বন্দিদের চোখ উঠার মতো নানা ধরনের অ্যালার্জি, চুলকানি রোগে ভোগেন। এছাড়া, বাইরে থেকে আজানের শব্দ বা মসজিদের ঘোষণা আসলেও এগজস্ট ফ্যান চালিয়ে তীব্র শব্দ সৃষ্টি করা হত, যাতে বন্দিরা কোনো শব্দ শুনতে না পান।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, বন্দিশালায় বন্দিরা প্রায়শই একসঙ্গে থাকতেন, যেখানে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হত। গত ১৫ বছর ধরে এই সেলগুলোতে বিরোধী মতাদর্শের লোকদের গুম করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে শুনানির জন্য ধার্য ছিল অভিযোগ গঠন। ইতোমধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার নাম।
রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন।
ট্রাইব্যুনাল আগামী ৯ ডিসেম্বর স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষে শুনানি গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছে।
আকাশজমিন /
আরআর