বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। তিনি দাবি করেন, চলমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন স্থানে উদ্ভূত নানা ষড়যন্ত্র দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী আলোচনার সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি গত ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছি—আমাদের সামনে সময়টা খুব ভালো নয়। সামনে অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।’’
তারেক রহমান বলেন, বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার ক্ষমতা শুধু জনগণেরই রয়েছে। তিনি বলেন, “এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে এই দেশের জনগণ। আর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দিতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র।”
তিনি আরও বলেন, যদি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় এবং যে কোনো মূল্যে জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়, তাহলে বহু ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে পারলেও তারপরেও সামনে অনেক কঠিন সময় রয়েছে—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।”
রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এখানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সকালে দিনব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনায় ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন হায়দার, আবদুল মজিদ, আমিনুল হক, মীর শাহে আলম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ, ভোটাধিকার, দুর্নীতি ও সুশাসন নিয়ে নানা বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামকে সংগঠিত করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতের কঠিন সময় মোকাবিলা করতে হবে। তিনি ছাত্রদল ও তরুণদের উদ্দেশে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তারুণ্যের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশকে বাঁচাতে হলে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের ঐক্য ছাড়া আর কোনো পথ নেই।”
আকাশজমিন
/ আরআর