ব্রিসবেন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে আট উইকেটে হারের পর ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম স্বীকার করেছেন, দলের ব্যর্থতার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল ‘অতিরিক্ত অনুশীলন’। ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড গোলাপি বলের টেস্টে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেনি। এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তবে ম্যাককালাম মনে করছেন, সমস্যা আসলে তার উল্টো দিকে ছিল।
ম্যাককালাম বলেন, “আমরা পাঁচ থেকে দশটা অনুশীলন সেশন করেছি। কখনও কখনও আমরা বেশি অনুশীলনই করেছি।” তিনি আরও বলেন, “এই খেলা মাথার দুই ইঞ্চিতে খেলা হয়। আমাদের এমনভাবে প্রস্তুত থাকতে হয় যাতে শরীর আর টেকনিক ঠিক থাকে। কিন্তু সতেজও থাকতে হবে। কঠিন মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সতেজ থাকা জরুরি।”
ব্রিসবেন টেস্টে ইংল্যান্ড চার ইনিংস পর্যন্ত ম্যাচ টেনে নিতে পারলেও বড় সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। সপ্তম উইকেটে বেন স্টোকস এবং উইল জ্যাকস ৯৬ রান যোগ করেছিলেন। কিন্তু দুজনই ১৭ বলের ব্যবধানে আউট হন। ইংল্যান্ডের দল থামে ২৪১ রানে। অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ছিল মাত্র ৬৫ রান, যা তারা মাত্র ১০ ওভারে তুলে নেয়। ফলে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ শেষে রিকি পন্টিংয়ের প্রশ্নের উত্তরে ম্যাককালাম হেসে বলেন, “আমরা হয়তো আজ রাতে একটা বিয়ার খাব।” এরপর তিনি জানান, তার মনে হয়েছে, দল অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে।
ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা চলছিল। ক্যানবেরার প্রাইম মিনিস্টার্স এক্সআইয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথম সারির খেলোয়াড়দের না খেলানোও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মাইকেল ভন বলেছেন, এটা করলে ‘ছেলেমানুষী’ ধরা হবে।
গোলাপি বলের টেস্টে ইংল্যান্ডের রেকর্ডও ভালো নয়। তারা এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচে দুটি জিতেছে, ছয়টিতে হেরেছে। ব্রিসবেনে রাতে ব্যাট করতে নেমে দুই সেশনে ইংল্যান্ড ২০ উইকেটের ১১টি হারায়। আলোতে কয়েকটি ক্যাচও হাতছাড়া হয়।
প্রথম ইনিংসে জো রুটের সেঞ্চুরি এবং জ্যাক ক্রলির ৭৬ ছাড়া বড় ইতিবাচক কিছু ছিল না। দুজন মিলে ১১৭ রান যোগ করেন। ইংল্যান্ডের মোট রান ৩৩৪। জবাবে অস্ট্রেলিয়ার সব ব্যাটার দুই অঙ্কে রান করে ৫১১ রান সংগ্রহ করে। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ১৭৭ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো শুরু হলেও ইংল্যান্ড দ্রুতই পথ হারায়। ৯০ রানে তারা ১ উইকেট হারানোর পর ১২৮ রান তুলতে আরও ৬ উইকেট হারায়। স্টোকস ও জ্যাকসের লড়াইও শেষ পর্যন্ত দলের হারের ক্ষতি করতে পারে না। ম্যাচ বিশ্লেষকরা বলছেন, ইংল্যান্ডের অতিরিক্ত অনুশীলন মানসিক ও শারীরিক সতেজতা কমিয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের স্বীকারোক্তি এ বিষয়টিকে আরও প্রমাণ করছে।
আকাশজমিন
/ আরআর