ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

দেশের মানুষ নির্বাচনমুখী, নির্বাচন স্থগিতের সময় নয়: হাইকোর্ট


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:১৫ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছেন, দেশের মানুষ এখন নির্বাচনমুখী, তাই নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট দায়ের করার এটি উপযুক্ত সময় নয়। এ ধরনের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন আদালত। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্যসহ আদেশ ঘোষণা করেন।

রিটকারী আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম বলেন, আদালতের মনোভাব বুঝে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তিনি রিট আবেদনটি নট প্রেস (উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ) করে নিয়েছেন এবং এই রিট আর চালাবেন না।

এর আগে ৩ ডিসেম্বর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটে নির্বাহী বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনের সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা চাওয়া হয়। পাশাপাশি ইলেক্টোরাল সার্ভিস কমিশন গঠনের নির্দেশনা এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে নির্বাচনে জেলা-উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পরিবর্তে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধানবিরোধী। রুল চাওয়া হয় কেন এই সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।

রিটে আরও বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাহী বিভাগ কমিশনকে সহযোগিতা করবে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচনের পরিচালনাপূর্ব দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগকে দেওয়া হচ্ছে, যা প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নির্বাহী বিভাগ সরকারের প্রতিনিধি হওয়ায় তারা সরকারের ইচ্ছানুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করে থাকে এবং এতে নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম দাবি করেন, নির্বাহী বিভাগ জনগণের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। তাদের দ্বারা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মীদের মধ্য থেকেই সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ডিসিদের সঙ্গে নির্বাচনের বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন এবং তাদের দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন— যা আবারও একটি প্রভাবিত নির্বাচনের আশঙ্কা তৈরি করছে।

ইয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবকে অপসারণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না। তবে আদালত মনে করেন, নির্বাচনমুখী পরিবেশে এমন রিটের সময় এখন নয়। তাই এটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করা হয়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর