বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওপর তাদের আস্থা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। দলটির নেতৃত্ব দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৈঠকে সিইসি ছাড়াও অন্য নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা কোনো অনাস্থা নিয়ে আসিনি। জাতি মনে করছে নির্বাচনের তফসিল নিয়ে সময় পার হয়ে যাচ্ছিল। তাই আমরা এসেছি। ইসির ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে।’
তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে মাঠে প্রচারণা শুরু হলেও সমান সুযোগ এখনো নিশ্চিত হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমান আচরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে নির্বাচনের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার জানান, বৈঠকে তারা মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন। কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইসি।
তফসিল ঘোষণা এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছিলাম তফসিল ঘোষণা নিয়ে ইসির স্পষ্ট সিদ্ধান্ত কী। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগেও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়েও কথা হয়েছে।’
তিনি জানান, কিছু এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল প্রচারে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তফসিল ঘোষণার পর এসব নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ ব্যাপারেও মতবিনিময় হয়েছে।
বৈঠকে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়। গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রবাসীরা নিবন্ধন পদ্ধতিকে জটিল মনে করছেন। এই প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়ানো গেলে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।
এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিসি ক্যামেরা থাকলে নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে। মানুষ নির্বাচনের ওপর আস্থা ফিরে পাবে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের যে প্রত্যাশা, তার সঙ্গে মাঠের পরিস্থিতি মিলছে না। আমরা চাই, সব দল সমান সুযোগ পাক। নিরাপত্তা ও প্রচারের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর হলে নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হবে।’
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, তাদের প্রতিনিধিদল ইসিকে জানিয়েছে—যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দেবে। ইসি বলেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
বৈঠক শেষে তিনি আবারও বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো পুরোপুরি তৈরি না হলেও ইসির ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা মনে করি, ইসি যথাযথ ব্যবস্থা নিলে নির্বাচনের পরিবেশ আরও উন্নত হবে।’