ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষ: কুয়েত প্রবাসী মামুন নিহত, গুলিবিদ্ধ ২০


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৯:১৯ পিএম

এস এম শরীফ মিয়া, নরসিংদী

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল নিলক্ষায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মামুন ভূইয়া (২৫) নামের এক কুয়েত প্রবাসী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দড়িগাঁও এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মামুন মিয়া স্থানীয় আব্দুল আউয়ালের ছেলে। তিনি মাত্র ১৫ দিন আগে কুয়েত থেকে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই নিলক্ষায় আধিপত্য নিয়ে প্রয়াত শহিদ মেম্বার গ্রুপ ও ফেলু মিয়া গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এ বিরোধ সময়ের সঙ্গে আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সোমবার সকালে স্থানীয় অরিপুর বাজারে ফেলু মিয়ার নাতিন জামাতা এবং কুয়েত ফেরত মামুন মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি দ্রুত দুই গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

হঠাৎই উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন মামুন ভূইয়া। একই ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হন। স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে দড়িগাঁও এলাকার আশপাশের লোকজন আতঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন।

আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ আহতদের মধ্যে মামুনের পিতা আউয়াল মিয়া (৫৫) এবং পরশ মিয়া নামে আরও দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করে আসছে। মাঝেমধ্যে ছোটখাট বিরোধ, মারামারি ও দফায় দফায় উত্তেজনা দেখা দিলেও সোমবারের ঘটনা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এলাকাবাসীর দাবি, নিয়মিত বিরোধ মেটাতে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।

ঘটনার খবর পেয়ে নরসিংদী জেলা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স পাঠায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পুলিশ মোতায়েন করেছি। একজন নিহত হওয়ার ঘটনা শুনেছি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।” তিনি আরও বলেন, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পেছনের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত মামুনের পরিবার তাঁর হত্যার বিচার দাবি করেছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর