অনলাইন রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় ইশতেহার তৈরিতে অনলাইন মাধ্যমে জনতার মতামত নেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার সকালে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানান।
ডা. শফিকুর রহমান পোস্টে উল্লেখ করেন, “আপনার একটি সুন্দর পরামর্শ বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের আগামী। তাই আপনার মতামতকে সঙ্গে নিয়েই তৈরি হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহার, ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও জানান, মতামত সংগ্রহের জন্য একটি নতুন অনলাইন প্ল্যাটফরম ‘জনতার ইশতেহার’ চালু করা হবে।
জামায়াতের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দেশের নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ইশতেহারের বিষয়বস্তুতে সাধারণ মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশা প্রতিফলিত করা। দলটি মনে করছে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জনগণের মতামত গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা, যা দলকে জনমুখী নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে।
জামায়াত সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘জনতার ইশতেহার’ প্ল্যাটফরমে নাগরিকরা বিভিন্ন প্রস্তাবনা, মন্তব্য এবং সুপারিশ জমা দিতে পারবেন। এতে দেশের শিক্ষিত যুবক, সাধারণ নাগরিক ও দলীয় সমর্থকরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। জমা দেওয়া মতামত বিশ্লেষণ করে দল তার নির্বাচনকালীন ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেছেন, জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইশতেহার আরও সমৃদ্ধ এবং বাস্তবসম্মত হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা ও প্রস্তাবনা ইশতেহারের মূল ভিত্তি হোক। এতে জনগণ তাদের নিজস্ব মত প্রকাশের সুযোগ পাবে এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি অবদান রাখতে পারবে।”
জামায়াতের এ অনলাইন উদ্যোগে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতরা তাদের ধারণা এবং প্রস্তাবনা জানাতে পারবেন। দলটি আশা করছে, এ প্ল্যাটফরমে জমা দেওয়া মতামত দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং জনমুখী করবে।
এ উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনলাইন মতামত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ স্থাপন করবে। দলটি মনে করছে, নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ‘জনতার ইশতেহার’ প্ল্যাটফরম নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে এবং নির্বাচনী ইশতেহারের পরিকল্পনাকে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।
জামায়াতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা অনলাইনে মতামত জমা দেবেন, তারা দলীয় নীতিমালা ও প্রস্তাবনাগুলোকে বাস্তবসম্মত দিক থেকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবেন। নির্বাচনের আগে এ ধরনের অংশগ্রহণ দলকে ভোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
এ উদ্যোগ বাংলাদেশে ডিজিটাল গণতন্ত্রের নতুন দিক উন্মোচন করবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের সঙ্গে আরও সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ দেবে। জামায়াতের পক্ষ থেকে এভাবে জনগণের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া আগামী নির্বাচনে দলের নীতি ও পরিকল্পনাকে আরও জনমুখী করার লক্ষ্য রাখছে।
আকাশজমিন / আরআর