জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশ রক্ষা পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধানের শীষকে জিতাতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। ধানের শীষ জিতানোর মাধ্যমে জনগণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ এবং সবার আগে বাংলাদেশ। নো কম্প্রোমাইজ। বুধবার বিকালে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনায় দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে যুবদল ও কৃষক দলের নেতারা অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, “আপনার দল আপনার সামনে যে স্ট্রেইটকাট প্ল্যান উপস্থাপন করেছে, দেখান তো আর কোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে এরকম পরিকল্পনা দিয়েছে? দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এমন পরিকল্পনা অন্য কেউ দেয়নি। এখন বসে থাকার সময় নেই, আপনাকে যুদ্ধে নেমে পড়তে হবে। এই যুদ্ধ মানুষের পক্ষে, দেশের পক্ষে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু পরিকল্পনার মধ্যে রাখলে হবে না। বাংলাদেশে বহু পরিকল্পনা হয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেছি, এবার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে চাই। আমাদের কাজ শুরু হবে, পরবর্তী প্রজন্ম তা অব্যাহত রাখবে।” দলের পরিকল্পনা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে সবাইকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “জনগণকে বোঝাতে হবে, এই কঠিন কাজ করতে হবে। এর বিকল্প নেই। অন্যথায় দেশ ও জাতি ধ্বংস হবে। আমরা যদি সজাগ না হই, মাঠে না নামি, দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।”
তারেক রহমান বলেন, “দেশকে প্রতিবার বিএনপি রক্ষা করেছে। শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া যতবার দায়িত্ব নিয়েছেন, দেশের অবস্থা কেমন ছিল তা ইতিহাসে আছে।” তিনি বলেন, “এখন শহীদ জিয়া ও খালেদার দায়িত্ব তোমাদের কাঁধে এসে পড়েছে। দেশের রক্ষা করতে হবে। সবাইকে উঠে দাঁড়াতে হবে, মানুষের কাছে যেতে হবে, ঘর থেকে বের হতে হবে। তখনই সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে তিনি দলের অগ্রাধিকার পরিকল্পনার রূপরেখাও তুলে ধরেন— ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, পরিবেশ রক্ষা, বেকার সমস্যা সমাধান, শিক্ষার উন্নয়ন। নারী, কৃষি ও শিক্ষা নিয়ে তিনি বলেন, “নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। কৃষি রপ্তানি বাড়ানো হবে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষায় দক্ষ করা হবে। বড় প্রজেক্টে না গিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নে টাকা ব্যয় করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতায় এলে ১০ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ নারী।” দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করতে পারলে ১০ বছর পর সুফল পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। খেলাধুলা ও নগর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সভাপতিত্বে সভায় দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশজমিন / আরআর