সাতক্ষীরায় কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগে সদর সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাবেক পিপি ও সাবেক ওসিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বুধবার দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আল ফেরদাউস আলফা সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডলের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর–সিআর ১৭৪২/২৫। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর্জা সালাউদ্দীন, সদর থানার সাবেক ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক ওসি মহিদুল ইসলাম, সাবেক পিপি আব্দুল লতিফ এবং তার ছেলে মো. রাসেল।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁকাল চেকপোস্টে বাদীর দেড় কোটি টাকার ভারতীয় সামুদ্রিক মাছ বিজিবি জব্দ করে। বাদীর বৈধ কাগজপত্র পাঠানো হলেও বিজিবি কাগজ বুঝতে না পেরে মাছ সদর থানায় পাঠায়। এ সময় মাছ ছাড়া না করার হুমকি দিয়ে তৎকালীন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বাদীর কাছে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাধ্য হয়ে বাদী ফোন বন্ধ করেন।
একইদিন রাতে মীর্জা সালাউদ্দীন ও ওসি মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০–১২ জন সাদা পোশাকধারী পুলিশ বাদীর পলাশপোলস্থ বাড়িতে গিয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। বাড়িতে থাকা ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার পরও রক্ষা পাননি বাদী। বাদী এবং তার ভাই আব্দুল আলিমকে তুলে নিয়ে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় মাছ জব্দের ঘটনায় করা মামলায় তাকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জব্দকৃত দেড় কোটি টাকার মাছ মাত্র ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেন আসামিরা। পরে মামলার জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তৎকালীন পিপি আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে মো. রাসেল বাদীর কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আদায় করেন।
বাদী দাবি করেন, আটক রেখে নির্যাতনের কারণে তিনি শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। দীর্ঘদিনের ভয়ভীতি, তৎকালীন অনুকূল পরিবেশের অভাব এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে মামলা করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এখন আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান জানান, মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল। একইসঙ্গে বিচারিক হাকিম পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।