নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন প্রচার সামগ্রী অপসারণে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডসহ সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের।
গত ১০ ডিসেম্বর ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে চিঠি লিখে এই নির্দেশনার বিষয়টি জানিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, দেয়াল লিখন, গেট, তোরণ, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জাসহ সব নির্বাচনী ক্যাম্প ও প্রচার সামগ্রী নিজ খরচে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে। এটি নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণে নির্ধারিত সময় মেনে না চললে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিষয়টি স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইসি তাদেরকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছে।
ইসি সদস্য আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার আগে আগাম প্রচার সামগ্রী সরানো অপরিহার্য। তা না করলে নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব পড়তে পারে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সকল প্রার্থীকে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচারণার সময় নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। আগাম প্রচারণা বন্ধ না করলে তা ভোটের সময় গণ্ডগোল সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনী নৈতিকতা ভঙ্গের শামিল। এজন্য ইসি সচেতন ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
আগামী ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সারা দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। এরপর ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে প্রচার সামগ্রী অপসারণের সময়সীমা শেষ হবে। এর পরেও প্রচার সামগ্রী না সরালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এবারের নির্বাচনকে দেশের সবচেয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্য নিয়ে ইসি সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সময়মত প্রচার সামগ্রী সরানো নির্বাচন পরিবেশকে নিরপেক্ষ রাখার অন্যতম অঙ্গ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর