গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
হাসপাতালে ডা. জুবাইদা রহমান হাদির ছোট ভাই ওমর এবং ছোট বোনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। হাদির চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়েও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
এই সাক্ষাতের সময় বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন এবং ডা. আমানুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। তারা হাদির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, মাথায় গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদির শারীরিক অবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, বাম কানের ওপর দিয়ে ঢুকে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বুলেট হাদির মস্তিষ্কের কাণ্ড বা ব্রেন স্টেম পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই অংশ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দনসহ জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই ইনজুরিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হাদির জন্য আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের নতুন চিকিৎসা হস্তক্ষেপ করা হবে না। বর্তমানে তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা এখনো আশার কোনো নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, গুলির গতিপথে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর ক্ষতি হওয়ায় রোগীর অবস্থা ‘খুবই ক্রিটিক্যাল’। আপাতত রোগীকে স্থিতিশীল অবস্থায় ধরে রাখাই চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য। তবে শরীরে এখনো সাইন অব লাইফ থাকায় সামান্য হলেও আশার জায়গা রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের আগেই হাদি একবার শকে চলে গিয়েছিলেন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় নাক ও গলা দিয়ে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। যদিও চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় সেই রক্তক্ষরণ আপাতত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
বিশেষ সহকারী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো আশাব্যঞ্জক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টা পার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আকাশজমিন / আরআর