ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

আ.লীগের পেছনে ভারতের মদদের অভিযোগ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:১৫ পিএম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ভারতের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ছাড়া আওয়ামী লীগ এ ধরনের পরিকল্পনা করতে পারে না। আওয়ামী লীগ তাদের সব পরিকল্পনা দিল্লিতে বসে করে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারতের সরকার একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দিয়ে নৈতিক অপরাধ করেছে। এখন তারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে আওয়ামী লীগকে সহায়তা করছে। এ ধরনের তৎপরতা ও জঙ্গি কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ডেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানো উচিত।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু রাজনৈতিক নেতা বা প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই জুলাই টিকে থাকবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান টিকে থাকবে তখনই, যখন সমাজ ও রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের প্রশ্নের সুরাহা করা যাবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যদি গণপ্রতিরোধ বজায় রাখা না যায়, তাহলে কারও নিরাপত্তাই নিশ্চিত থাকবে না। জনগণই প্রকৃত নিরাপত্তা, সেই জনগণের কাছ থেকেই আমাদের নিরাপত্তা নিতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে এবং সরকারকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে, পুলিশের বিভিন্ন জায়গায় এবং মিডিয়াসহ নানা ছদ্মবেশে আওয়ামী লীগের লোকজন সক্রিয় রয়েছে। সরকারকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে কাজ করা জরুরি। কোর্টপাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজনৈতিক মাঠে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব দলকে নিজ নিজ মতাদর্শী শক্তিকে সংগঠিত ও সক্রিয় করতে হবে। এই প্রতিরোধ শুধু রাজনৈতিক মাঠে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কোর্ট, মিডিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন সেক্টরে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, এসব জায়গায় আওয়ামী লীগকে অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনকে আহ্বান জানাই—আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং ভারতকে জবাবদিহির আওতায় আনার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তিনটি দলের নেতাদের ডেকেছিলেন। সেখানে একত্রে আলোচনা হয়েছে এবং শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা নয়, বরং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ। এই পরিবেশ কীভাবে সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য কীভাবে অটুট রাখা যায়—সে বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, মতবিরোধ থাকবে, কিন্তু তা যেন কখনো সীমা অতিক্রম না করে। যাতে আওয়ামী লীগ কোনো সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে মিডিয়া ও টকশোর মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে নরমালাইজ করার চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গোপন বৈঠক, কোর্টপাড়ায় স্লোগান, টকশোতে আওয়ামীপন্থি বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতি এবং জাতীয় পার্টিকে প্রস্তুত করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের একটি সুপরিকল্পিত আয়োজন চলছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর