দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সময় রাজধানীতে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও তার নিরাপত্তা নিয়ে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলাকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তার ভাষায়, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে ১০ তারিখ। তার পরদিনই বাংলাদেশে একজন সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। হামলার ধরন দেখে বোঝা যায়, এটি একটি পেশাদার শ্যুটারের কাজ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখবো এবং তা আরও সুদৃঢ় করবো। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, সামনে নির্বাচন ঘিরে নানা বিতর্কও হবে। কিন্তু সেই বিতর্ক এমন পর্যায়ে যাবে না, যাতে আমাদের ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও তার নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যেন নিরাপদে থাকতে পারেন, সে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা সে বিষয়ে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি।’ তিনি যোগ করেন, ‘এ বিষয়টি আমাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা দলীয়ভাবেও চেষ্টা করবো এবং সরকারকেও আহ্বান জানাবো, যাতে উনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘কোনো আশঙ্কাকেই আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং জনগণের সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমেই এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।’ এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যৌথ বাহিনী, সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের চেতনা জুলাই-২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা। জনগণের প্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবো। ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে কোনো আপস নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিবাদকে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই—এ ধরনের হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
হাদির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায়) অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানান, গুলিটি তার মস্তিষ্কের কাণ্ড বা ব্রেন স্টেমে মারাত্মক ক্ষতি করেছে, যা ‘ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচিত। আগামী ৭২ ঘণ্টা তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আকাশজমিন / আরআর