ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ মো. ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে খুবই আশঙ্কাজনক। তবে তার কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরে এসেছে এবং সেটি বজায় রাখতে পূর্বনির্ধারিত ফ্লুইড ব্যালেন্স নিয়মিত অনুসরণ করা হচ্ছে। আগে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা গেলেও তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই অবস্থার সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রক্ত ও রক্তজাত উপাদান সঞ্চালন অব্যাহত রাখা হবে।
আজ শনিবার বিকেলে এভারকেয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসায় গঠিত ১২ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড এ তথ্য জানায়। বোর্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শরীফ ওসমানের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। এক সূত্রে জানা গেছে, তার কনসাচ লেভেল বর্তমানে ৩, যা অত্যন্ত নিম্নমানের নির্দেশক।
এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও আইসিইউ-এইচডিইউ কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. জাফর ইকবাল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শরীফের মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখা হয়েছে। ব্রেন প্রোটেকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট চালু রয়েছে। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে পুনরায় ব্রেনের সিটি স্ক্যান করা হতে পারে।
তবে ফুসফুসে ইনজুরি রয়েছে এবং চেস্ট ড্রেইন টিউব দিয়ে অল্প পরিমাণ রক্ত নির্গত হওয়ায় সেটি আপাতত চালু রাখা হয়েছে। ফুসফুসে সংক্রমণ ও এআরডিএস প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রেন স্টেম ইনজুরির কারণে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের ওঠানামা ঘটছে। বর্তমানে যে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে তা চলমান থাকবে। হৃদস্পন্দন বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে টেম্পোরারি পেসমেকার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট টিম প্রস্তুত রয়েছে।
তাছাড়া, কোনো ভিজিটর হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবে না এবং অপ্রয়োজনে হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অনুমানভিত্তিক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে মেডিকেল বোর্ডের প্রতি আস্থা রাখতে সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো অ্যানেস্থেশিয়া ও আইসিইউর সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নিউরোসার্জারি সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জিল্লুর রহমান, কার্ডিওলজি সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এ কে এম রেজা, নেফ্রোলজি সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাসুম কামাল খান, রেসপিরেটরি মেডিসিন সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জিয়াউল হক, নিউরোমেডিসিন সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. খন্দকার মাহবুবুর রহমান, কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জুলফিকার হায়দার, বক্ষব্যাধি সার্জারি সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শাহিনুর রহমান, অর্থোপেডিক্স সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আতিয়ার রহমান, নাক-কান-গলা সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. একরাম উদ্দৌলা এবং হেমাটোলজি কনসালটেন্ট ডা. কাজী স্মিতা হক। সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন এভারকেয়ার হাসপাতালের ডিএমএস ডা. আরিফ মাহমুদ ও প্রাইমারি কনসালটেন্ট ডা. আলিউজ্জামান।
আকাশজমিন / আরআর