ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ

নড়াইলের নারীদের শীতকালীন মুখরোচক কুমড়ো বড়ি প্রস্তুতি


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৭:০০ পিএম

নড়াইল প্রতিনিধি 

শীতের আগমন ঘিরে নড়াইলের গ্রামাঞ্চলে কুমড়ো বড়ি তৈরির আমেজ তুঙ্গে উঠেছে। এই ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক তরকারির বিশেষ আকর্ষণশালী উপাদান কুমড়ো বড়ি শীতকালেই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। নড়াইলের বিভিন্ন গ্রামে দিনভর নারীরা এই কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

কুমড়ো বড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ মাসকলাইয়ের ডাল ও চালকুমড়া। বাজার থেকে ডাল সংগ্রহ করে রাতে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে ভেজানো ডাল মেশিনে ভাঙা হয় এবং তাতে পানি, বাটা চালকুমড়া ও মসলা মিশিয়ে বড়ির মণ্ড তৈরি করা হয়। এরপর টিনের চালে বা কাপড়ে ছোট ছোট গুটি গুটি করে বড়ি দেওয়া হয়। নরম অবস্থায় এগুলো পাতলা কাপড় বা মাচায় সারি করে রোদে শুকানো হয়। বর্ষাকাল বাদে বছরের অধিকাংশ সময়ই কুমড়ো বড়ি তৈরি হয়। বিশেষ করে শীতকাল কুমড়ো বড়ি তৈরির মৌসুম হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়রা জানায়, শীতকালে কুমড়ো বড়ির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে অবশিষ্ট বড়ি বিক্রি করে নারীরা বাড়তি আয় করছেন। নড়াইল শহরের হাটবাড়িয়া গ্রামের কুমড়ো বড়ির কারিগর মিনতি বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩০ বছর ধরে কুমড়ো বড়ি তৈরি করছি। গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে এই কাজ চলে। ব্যবসায় আমরা প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কেজি ডাল মেশিনে ভাঙে বড়ি তৈরি করি। পাইকারি দরে বিক্রি হয় ২৫০ টাকা ও খুচরা দরে ৩০০ টাকা প্রতি কেজি। ডালের দাম কম থাকলে লাভ বেশি হয়। মাসকলাই ও ভুটের ডাল মিশিয়ে বড়ির স্বাদ আরও বাড়ে। আমরা অর্ডার অনুযায়ী তৈরি করি এবং প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি বড়ি বিক্রি করি।'

অন্য একজন কারিগর মালিনী বিশ্বাস বলেন, ‘ডাল ভাঙার জন্য প্রতি কেজি ২০ টাকা খরচ হয়। অনেক ক্রেতা বাড়িতে এসে সরাসরি বড়ি কিনে নেয়। ঢাকা, খুলনা ও অন্যান্য জেলায়ও বিক্রি হয়। অনেকেই আমাদের গ্রামে এসে বড়ি তৈরির পুরো প্রক্রিয়া দেখে কুমড়ো বড়ি কিনে নিয়ে যান। আমাদের বড়ির সুনাম দিন দিন বাড়ছে।’

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান বলেন, ‘শীতের সময় কুমড়ো বড়ি অত্যন্ত জনপ্রিয়। স্থানীয় নারীরা হাতে তৈরি করে যা স্বাদে ভিন্ন। এ বড়ি শুধু নিজস্ব ব্যবহার নয়, উপহার হিসেবে দিতেও অনেকেই কিনে নেন। হাটবাড়িয়ার বড়ির স্বাদ অন্যত্র পাওয়া যায় না এবং এটি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত হওয়ায় চাহিদা বেশি।’

শীতকালে বাড়তি আয় এবং ঐতিহ্য ধরে রাখার এক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে নড়াইলের এই কুমড়ো বড়ি তৈরির প্রথা। হাটবাড়িয়া গ্রামের নারীরা তাদের দক্ষতায় কেবল নিজেরাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর