হাদির সঙ্গে তার দুই ভাইও সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। এর আগে সোমবার বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে হাদিকে নিয়ে সেটি আবার সিঙ্গাপুরের পথে রওনা হয়।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোড এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দুই আততায়ী। মোটরসাইকেলে করে আসা দুইজনের মধ্যে একজন খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ওই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়েছে। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা এখনো গুরুতর এবং তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই আততায়ীর একজন ‘ফয়সাল করিম’ তার সঙ্গে কিছুদিন ধরে নির্বাচনী প্রচার কাজে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও ফয়সাল করিমকে সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে নাগরিকদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার নেতা ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
এই ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওসমান হাদির এক আত্মীয় মামলার বাদি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পল্টন থানার ডিউটি অফিসার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) রকিবুল হাসান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক, বর্ডার দিয়ে মানুষ পাচারকারী চক্রের দুই সদস্য এবং অভিযুক্ত ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও অপর এক নারী রয়েছেন। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হামলাকারীরা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে পালিয়ে গেছে—এমন গুঞ্জন রয়েছে। তবে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। গুঞ্জনের বিষয়টি আমলে নিয়ে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে যাচাই-বাছাই চলছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এর আগে গত মাসে (নভেম্বর) দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। ১৪ নভেম্বর নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তাকে হত্যা, তার বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিদেশি নম্বর থেকে একাধিক কল ও বার্তার মাধ্যমে তাকে এসব হুমকি দেওয়া হয়। এসব হুমকির বিষয়টি নিয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে।
আকাশজমিন / আরআর