গতকাল রোববার দিবাগত রাত ২টার পর জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের পাশাপাশি আরও দুইজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন মডেল মারিয়া কিশপট্ট ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোহাম্মদ রফিক আহমেদ জানিয়েছেন, অভিযোগটি মূলত সাইবার–সংক্রান্ত বিষয়ে করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ কারণে আপাতত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়বস্তু ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগকারী পক্ষের দেওয়া তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সাংবাদিক আনিস আলমগীর বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের অংশ হিসেবেই তাঁকে সেখানে রাখা হয়েছে।
আজ সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আনিস আলমগীর এখনও ডিবি কার্যালয়ে আছেন এবং অভিযোগের বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাঁর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমানও আনিস আলমগীরের ডিবি কার্যালয়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আকাশজমিন / আরআর