মহান বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ১৬ ডিসেম্বর ভোরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। পরে তিনি স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের তাৎপর্যপূর্ণ এই মুহূর্তটি আরও গাম্ভীর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে তিনি স্মৃতিসৌধে পৌঁছে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ও তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা বর্ণিল সাজে সেজেছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় লাল-সবুজের আলোকসজ্জা চোখে পড়েছে। বিজয়ের ৫৫ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে আলোকচ্ছটায় ঝলমল করছে পুরো নগরী, যা নগরবাসীর মাঝে উৎসবের আবহ সৃষ্টি করেছে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র্যালি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বিজয়ের তাৎপর্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ ও অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় বাঙালি জাতির ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে আছে।
মহান বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি স্বাধীনতার চেতনা ধারণ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ। এই দিনে জাতি নতুন করে অঙ্গীকার করে—শহীদদের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার।