অনলাইন রিপোর্টার
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ৮টায় রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় একটি চৌকস পুলিশ দল শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানায় এবং বিউগলের করুণ সুরে পরিবেশটি হয়ে ওঠে আবেগঘন।
প্রথমে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর পুলিশ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী পৃথকভাবে পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের বীর পুলিশ সদস্যরা। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবনবাজি রেখে প্রতিরোধ গড়ে তুলে তারা স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনালগ্নেই সাহসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এই প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধের দৃঢ় প্রত্যয় আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
মহান বিজয় দিবসে রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন সেই ঐতিহাসিক অবদানকে স্মরণ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের পুলিশ সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। শহীদ পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথে এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে সারাদেশে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, বিশেষ প্রার্থনা, আলোচনা সভা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ এবং জনগণের নিরাপত্তা ও সেবায় পুলিশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে।
মহান বিজয় দিবসে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগের অঙ্গীকারের প্রতীক। এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে সেইসব বীর পুলিশ সদস্যদের, যাদের আত্মত্যাগ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হতো না।
ঢাকা টুডে / আরজে