ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রথম আলো কার্যালয়কে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘ক্রাইম সিন’ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে প্রথম আলোর প্রধান ফটকের সামনে ‘ক্রাইম সিন’ লেখা ফিতা টানিয়ে দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ফিতায় স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে— ‘ডু নট ক্রস’। একই সঙ্গে সিএ ভবনের পাশের অংশেও ক্রাইম সিন ঘোষণা করে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, পুরো এলাকাকে আপাতত ক্রাইম সিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই কেমিক্যাল এক্সপার্ট টিম ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ করবে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। বর্তমানে কেবল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের ভবনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, ‘ক্রাইম সিন’ লেখা বেষ্টনী টানানোর অর্থ হচ্ছে— এই সীমার ভেতরে কেউ প্রবেশ বা বের হতে পারবে না। অপরাধ তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও প্রাথমিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভবনটি কার্যত বন্ধ থাকবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের পরিষ্কার বা সংস্কার কাজও করা যাবে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে প্রথম আলো কার্যালয়ের ভেতরের বেশিরভাগ আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। কম্পিউটার, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনের নিচতলায় অবস্থিত প্রথমা প্রকাশনী পুরোপুরি পুড়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আশপাশের ভবনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়েনি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল আগুনের উৎস, ভাঙচুরের ধরন এবং সম্ভাব্য পরিকল্পিত নাশকতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। আগুন লাগানোর ক্ষেত্রে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষার আওতায় রয়েছে।
এই ঘটনার পর পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদারে আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথম আলো ভবনে হামলা চালায়। একপর্যায়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি ভবনের ভেতরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
এদিকে, ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।