ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

ঢাকায় পৌঁছেছে বিপ্লবী ওসমান হাদির লাশ


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:১৭ পিএম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রসেনানী শরিফ ওসমান হাদির লাশ ঢাকায় পৌঁছেছে। তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৫ ফ্লাইটটি শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজনৈতিক সহকর্মী, আন্দোলনকারী এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। রাতেই শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি।

দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাদির হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সময়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এতে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।

রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। বিভিন্ন সড়কে মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলেও হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। অনেক স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাধারণ মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয় রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদিকে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে টানা কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই বিপ্লবের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ও মুখপাত্র। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গণআন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। সমর্থকদের মতে, তিনি ছিলেন আপসহীন, সাহসী ও আন্দোলনমুখী একজন নেতা।

তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে শোকের পাশাপাশি নতুন করে আন্দোলনের আবহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন তার হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেছে। হাদির মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর