অনলাইন রিপোর্টার
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ হাদির হত্যার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে শাহবাগে জড়ো হয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহীদ হাদির জানাজার নামাজ শেষে উপস্থিতরা মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে আগাচ্ছেন। মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণরা নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘ন্যায় বিচার চাই’, ‘তুমি কে, আমি কে? হাদি, হাদি; আমরা সবাই হাদি হবো’—এমন স্লোগান দিয়ে তারা তাদের চাওয়া-প্রার্থনা প্রকাশ করছেন।
জানাযা শেষে মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার বক্তব্য অনুযায়ী, এই আন্দোলন শুধু শহীদ হাদির হত্যার প্রতিবাদ নয়, এটি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবির অংশ। তারা বলেন, “শহীদ হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা না হলে এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকতে পারবে না। আমরা চাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি আনুক।”
মিছিলে উপস্থিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “শহীদ হাদির হত্যার ঘটনা দেশের জন্য একটি মর্মান্তিক ক্ষতি। আমরা চাই দ্রুত তার হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হোক। আমাদের আন্দোলন সেই দাবির প্রতিফলন।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিবুল রানা বলেন, “হাদির হত্যার ঘটনা শুধু একজন রাজনীতিবিদকে নয়, দেশের সংবিধান ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপর আঘাত। আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা।”
মিছিলে উপস্থিত সাধারণ মানুষও তাদের চাওয়া-প্রার্থনা জানাচ্ছেন। অনেকেই নিজেদের সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে শাহবাগে আসেন। অনেকে স্লোগান দিচ্ছেন, অনেকে দোয়া করছেন। শহীদ হাদির হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং শাহবাগে এই ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে জনসমাগমের মাধ্যমে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও মিছিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে উপস্থিত রয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নজরদারি করছেন। এ ছাড়া মিছিলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধের জন্য ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ আশা প্রকাশ করেছেন, শহীদ হাদির হত্যার বিচারের জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া তারা দাবি করেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা আবশ্যক।
শাহবাগে শুরু হওয়া আন্দোলনটি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে একত্রিত করেছে। তারা বলছেন, শহীদ হাদির হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। তাই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা সব সংস্থাকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
উপস্থিতরা জানান, এই মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে চলবে, তবে শহীদ হাদির হত্যার বিচারের দাবি তারা জোরালোভাবে জানাতে থাকবেন। এই আন্দোলন দেশের জনগণকে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করবে।
শাহবাগে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের এই প্রতিবাদ এবং ন্যায়বিচারের দাবির সমাগম পুরো রাজধানীর নজর কেড়েছে। এর মাধ্যমে তারা দেশের কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শহীদ হাদির হত্যার দ্রুত বিচার এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য জনমতের গুরুত্ব অপরিসীম।
আকাশজমিন / আরআর