প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসির কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বিএনপির প্রতিনিধি দলে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মূলত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর স্বদেশে ফিরবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর তিনি সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে বর্তমানে তারেক রহমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা জরুরি হয়ে ওঠে।
বিএনপির নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হলে ভোটার তালিকাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে। এজন্য প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করছে বলে জানা গেছে।
বৈঠক চলাকালে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনকালীন আইনগত বিষয় এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক বিএনপির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারেক রহমানের ভোটার হওয়া এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ রাজনৈতিক আস্থার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও বৈঠক শেষে বিস্তারিত জানানো হতে পারে। ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই বৈঠকের ফলাফল রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকাশজমিন /
আরআর