অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ বর্তমানে একটি পরিবর্তনকালীন বা ট্রানজিশন পিরিয়ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে এই পরিবর্তনকালীন সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘যে ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শাসন আমাদের মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, সেই শাসন থেকে বেরিয়ে এসে আমরা এখন একটি নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছি।’ তাঁর প্রত্যাশা, নির্বাচনের পর গঠিত সরকার ও সংসদ দেশ ও জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি ও মহল দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার জন্য ভয়ংকর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই পরিবর্তনকালীন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে নানা সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শহীদ হওয়া ওসমান হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
সরকারের ব্যর্থতার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এই কয়েকটি মাসে তাদের যোগ্যতার পরিচয় দেবে এবং দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করবে।’ কিন্তু বাস্তবতায় সেই প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, পরিবর্তনকালীন সময়ে সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সে জায়গায় দুর্বলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও জনমনে শঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা করায় অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান বিএনপির মহাসচিব। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নির্বাচনকালীন যে পরিবেশ প্রয়োজন, তা তৈরির জন্য সরকারকে আরও সচেতন, ইতিবাচক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেবে।’ নির্বাচনের সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে অবাধ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিবর্তনকালীন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সময়টি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশকে স্থিতিশীল পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। অন্যথায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আকাশজমিন / আরআর