ফরিদপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিদেশগামী কর্মীদের মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব ও অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারি-বেসরকারি সকল পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সোমবার বিকেলে ফরিদপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের হলরুমে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহযোগিতায় এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিরীন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্ট বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল আজম এবং ফরিদপুর কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ও অধ্যক্ষ মো. আখতারুজ্জামান। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মাদকদ্রব্য শুধু ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বিদেশগামী কর্মীদের ক্ষেত্রে মাদকাসক্তি তাদের কর্মজীবন, সামাজিক মর্যাদা ও দেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে বিদেশে যাওয়ার আগে মাদক সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার সমাজে অপরাধ, সহিংসতা ও পারিবারিক ভাঙনের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা কর্মক্ষমতা হারিয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, যা পরিবার ও সমাজের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
আলোচনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন দিক, মাদকের প্রকারভেদ, মাদকাসক্তির লক্ষণ এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বক্তারা প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিদেশে কাজ করতে গেলে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও সুস্থ জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদক থেকে দূরে থাকাই একটি সফল ও নিরাপদ ভবিষ্যতের অন্যতম শর্ত।
সেমিনারে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীরা মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আয়োজকদের আশা, এ ধরনের সেমিনার বিদেশগামী কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।