ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

১৭ বছর পর ফিরে আসছেন তারেক রহমান

৫০ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশায় রাজনীতির মহা উৎসব


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:৪০ পিএম

১৭ বছরের নির্বাসনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় বিশাল এক সংবর্ধনা মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।

এই মঞ্চের মাধ্যমে তারেক রহমানের আগমনকে রাজকীয় আকারে গ্রহণ করা হবে। পূর্বাচল এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। সমাবেশস্থলটি ব্যানার, পতাকা, তোরণ ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। ৩০০ ফিট এলাকায় বৃহৎ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২৪ ডিসেম্বর সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় জমায়েত হতে শুরু করেছেন। কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রংপুর, বগুড়া সহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আগ্রহের সঙ্গে আসছেন। অনেকে আগের দিন রাত থেকেই মঞ্চ এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।

মঞ্চ নির্মাণের কাজ গত রোববার থেকে শুরু হয়ে আজকে প্রায় শেষ হয়েছে। মঞ্চের আয়তন ৪৮x৩৬ ফুট, যেখানে রাজকীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সংবর্ধনা কমিটির সদস্যরা দিন-রাত পরিশ্রম করে সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে তদারকি করছেন।

নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী মিলিতভাবে কাজ করছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন টিম গাড়ি নিয়ে সমাবেশ এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনসমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনও ধরনের ঝুঁকি না থাকে।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির চৌদ্দশত ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মাহেন্দ্রক্ষণ হবে। এতদিন দূরে রাখার পরও দেশের মানুষ তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে। তিনি বলেন, “২৫ ডিসেম্বরকে আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, দেশের মানুষের আনন্দের দিন হিসেবে দেখছি।”

তিনি আরও বলেন, গ্রাম থেকে আসা মানুষের চোখ-মুখে যে উচ্ছ্বাস, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এখানে এসে মনে হচ্ছে, আমরা নতুন করে আমাদের নেতা, রাজনীতি ও শক্তিকে বরণ করছি। স্বৈরাচার পতনের পর তার আগমন একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। “আমরা ঈদের মতো আনন্দ নিয়ে এসেছি। ২৫ ডিসেম্বর শুধু বিএনপির দিন নয়, এটি দেশের সাধারণ মানুষের দিন। আমরা চাই সমাবেশটি সুশৃঙ্খল হোক। জনতার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে নেতৃত্ব ও জনগণ একসঙ্গে আছে।”

বগুড়া থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, “নেতাকে স্বাগত জানাতে মানুষের এত সমাগম জাতীয় উৎসবের মতো মনে হচ্ছে। আমরা প্রস্তুত আছি যাতে পুরো আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। এটি আমাদের জন্য সম্মানের দিন।”

চট্টগ্রাম থেকে আসা যুবদলের কর্মী ইলিয়াস হোসেন বলেন, “আগামীকাল ঢাকা শহরে এত বড় জমায়েত হবে যা আগে কেউ দেখেনি। আমরা নেতাকে বরণ করতে আসিনি, আমরা প্রমাণ করতে এসেছি যে এই নেতৃত্বের পেছনে জনগণ রয়েছে। এত বছর পরও তার নামেই মানুষ পথে নেমে আসে, এটা সাধারণ ব্যাপার নয়। এটাই রাজনীতির আসল শক্তি।”

তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে বনানী ও কাকলী হয়ে সরাসরি সংবর্ধনা মঞ্চে উঠবেন। ৩০০ ফিট এলাকার মহাসড়কে নির্মিত এই বিশাল মঞ্চ প্রস্তুতির জন্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করা হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী গত ২৩ ডিসেম্বর ৩০০ ফিট এলাকার মঞ্চ পরিদর্শন করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “২৫ ডিসেম্বর এখানে ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসা শুরু হয়েছে। তাই ২৫ ডিসেম্বর একটি মহামিলন ও মহামেলা হিসেবে পরিণত হবে। আমরা এই ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত।”

রাজধানীর এই বৃহৎ সমাবেশ রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনের পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপির নয়, গোটা দেশের রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর