বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধ রেখেছেন দলের যুক্তরাজ্য শাখার নেতা-কর্মীরা। তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁরা তাঁকে বিদায় জানাতে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে ভিড় করেননি। ফলে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে, বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ১২টায়, তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন, তিনি ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন। ওই সভাতেই তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেন। একই সঙ্গে তিনি অনুরোধ জানান, তাঁর বিদায়বেলায় যেন কেউ বিমানবন্দরে উপস্থিত না হন।
সভায় দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ভিড় হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন। দলের শীর্ষ এই নেতার আহ্বান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
গতকাল সরেজমিনে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে দেখা যায়, টার্মিনাল-৪ এলাকা দিয়ে তারেক রহমান যখন বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন, তখন সেখানে শ দুয়েক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন ছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মী। অন্যরা মূলত ওই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন। যদিও এই যাত্রীদের অনেকেই যুক্তরাজ্য বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত, তবুও তাঁরা আলাদাভাবে কোনো জমায়েত করেননি।
এ সময় বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ছাড়া দলের কিংবা অঙ্গসংগঠনের অন্য কোনো নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল শান্ত ও সুশৃঙ্খল।
তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার প্রথমে সিলেটে পৌঁছাবেন। সেখানে যাত্রাবিরতির পর তিনি বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরের রেড জোনে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি। তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সেখানে যাবেন। গণসংবর্ধনাস্থলে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত হয়েছেন।
গণসংবর্ধনা শেষে তারেক রহমান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মা বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত—উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।