দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আপন মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। টানা ১৭ বছর পর তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে সারাদেশজুড়ে তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাস ও আবেগঘন পরিবেশ। তাকে একনজর দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিএনপির লাখো নেতাকর্মী। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে তারা অপেক্ষা করছিলেন প্রিয় নেতার আগমনের। চারপাশজুড়ে ছিল স্লোগান, উল্লাস আর আনন্দধ্বনি। প্রত্যেকের চোখ ছিল একটাই পথে—কখন আসবেন তারেক রহমান।
দুপুর ২টা ৫ মিনিটে গণসংবর্ধনাস্থলের প্রবেশপথে পৌঁছান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এ সময় নারী-শিশু, তরুণ-যুবা থেকে শুরু করে প্রবীণ নেতাকর্মীরাও তাকে অভিবাদন জানান। অনেকেই হাত উঁচিয়ে সালাম জানান, কেউ কেউ আবেগে কেঁদে ফেলেন। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এর আগে, বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দলের শীর্ষ নেতারা। ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে তিনি জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে পা রাখেন এবং একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। এই মুহূর্তটি উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগের সৃষ্টি করে।
এরপর লাল-সবুজ রঙের একটি বাসে চড়ে তিনি রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকার গণসংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশে রওনা হন। বাসটির গায়ে ছিল দলের ঐতিহাসিক স্লোগান ও প্রতীক। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। উত্তরে সমর্থকরাও স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
পথজুড়ে ছিল ব্যাপক জনসমাগম। কোথাও কোথাও মানুষ ছাদে উঠে, ফুটওভারে দাঁড়িয়ে কিংবা রাস্তার পাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানকে এক ঝলক দেখার চেষ্টা করেন। পুরো পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর।
গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছানোর পর কিছুক্ষণের মধ্যেই দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির এই কাণ্ডারির। দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে তার বক্তব্যকে ঘিরে নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
১৭ বছর পর তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে যেমন নতুন গতি এনেছে, তেমনি দেশের রাজনীতিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এই দিন।