ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

অধিকার, শান্তি ও ঐক্য: সংবর্ধনা মঞ্চে তারেক রহমানের বার্তা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৭ পিএম

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হয়ে দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল—সকলে মিলে দেশ গড়ার সময় এসেছে এবং বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়।

বিকেল ৩টা ৫১ মিনিটে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। তিনি হাতে নেড়ে সমর্থকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। মঞ্চে উঠার পর বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামীনের দরবারে হাজারো লক্ষ-কোটি শুকরিয়া আদায় করছি, অশেষ রহমতে প্রিয় মাতৃভূতিমেক ফিরে আসতে পেরেছি আপনাদের মাঝে।

তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো স্মরণ করান। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা তুলে ধরে দেশপ্রেমিক ও ত্যাগী মানুষের অবদান স্মরণ করেন। এছাড়া ১৯৭৫ সালের সিপাহী–জনতার বিপ্লবের কথাও উল্লেখ করেন। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একাত্তরের মতো এ দেশের ছাত্র–জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ—কৃষক, শ্রমিক, নারী–পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ পেশা ও শ্রেণি নির্বিশেষে—স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছিল।

তারেক রহমান বলেন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যা একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যেখানে একজন মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারবে এবং ঘরে ফিরে আসতে পারবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই আছে। আমরা চাই, দেশের প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে।

তার বক্তব্যের অন্যতম মূল বার্তা ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। আমরা চাই, দেশের ভোটাধিকার, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক অধিকার সকলে ব্যবহার করতে পারে।

তিনি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেন। দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে একত্রে নিয়ে চলতে হবে। নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করবে। সহিংসতা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সময় শেষ হয়েছে।

তার বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ক্ষমতায় এলে বিএনপি অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের যুবসমাজকে প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরি করার সুযোগ প্রদান করবে।

তরুণ প্রজন্মকে বিশেষ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তরুণ সমাজের হাতে। তাদের জ্ঞান, উদ্যম ও নেতৃত্ব দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা চাই, তরুণরা রাষ্ট্র গঠনের অংশীদার হোক।

তারেক রহমানের বক্তব্যে সামাজিক নিরাপত্তা ও নারী–পুরুষের নিরাপদ চলাফেরার বিষয়ে বিশেষ জোর দেয়া হয়। তিনি বলেন, একজন নারী, পুরুষ বা শিশু যেই হোক না কেন, নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে বিমানবন্দর ও ৩০০ ফিট এলাকায় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ফ্লাইট নং বিজি-২০২ বিকেল ১২টা ৩৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে এক ঘণ্টা বিরতির পর ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দলের নেতারা। এরপর তার শাশুড়ি তাকে ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানান। স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানও তার সঙ্গে ছিলেন।

তারেক রহমান সংবর্ধনা মঞ্চে বক্তৃতায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষকে একসাথে নিয়ে চলা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সকলকে অন্তর্ভুক্ত করি—পাহাড়ের মানুষ, সমতলের মানুষ, সকল ধর্মের মানুষ। দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি পরপর তিনবার জোর দিয়ে বলেন,আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশের শান্তি চাই।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ প্রায় দুই হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলেন। তিনি যাত্রার প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রটোকল অনুসরণ করেন।

তারেক রহমানের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং জাতির প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। তিনি দেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার, শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মকে রাষ্ট্র গঠনে অংশীদার করার আহ্বান ও সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিককে একত্রিত করার বার্তা তার বক্তব্যের মূল উপজীব্য।



এ সম্পর্কিত আরো খবর