জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে আট দলীয় জোট। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসন সমঝোতা ও জোট সম্প্রসারণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আন্দোলনরত আট দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি জানান, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতির বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করতেই এই জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।
আট দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলনে আট দলের নেতারা আসন সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মধ্যে গত দুদিন ধরে ব্যাপক আলোচনা ও দৌড়ঝাপের পর অবশেষে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। সেই সমঝোতার বিস্তারিত তুলে ধরতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ, প্রার্থী বাছাই এবং সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আসন সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আট দলীয় জোটের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে আট দলীয় জোটের সঙ্গে আরও তিনটি রাজনৈতিক দল যুক্ত হওয়ার বিষয়েও আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। জানা গেছে, এলডিপি, এবি পার্টি ও এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
বর্তমানে আট দলে থাকা দলগুলো হলো—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। এসব দল দীর্ঘদিন ধরে যুগপৎ আন্দোলনের ব্যানারে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, জোটের পরিসর বাড়লে নির্বাচনী মাঠে সমন্বিত শক্তি আরও সুসংহত হবে। বিশেষ করে আসন সমঝোতার মাধ্যমে ভোট ভাগাভাগি এড়ানো এবং বিরোধী ভোট একত্রিত করার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আট দলীয় জোটের এই সংবাদ সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আসন সমঝোতা ও নতুন দল যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেশের রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে। বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর