জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে এনসিপি আট দলের সঙ্গে একযোগে নির্বাচনে অংশ নেবে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে এনসিপির যেসব প্রার্থী থাকবেন, তারাই মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। সারাদেশে জোটের অংশীদার দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন করা হবে। যেসব আসনে এনসিপির প্রার্থী থাকবে না, সেখানে জোটের অন্য প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষেই দলীয় অবস্থান থাকবে। যেখানে এনসিপির প্রার্থী থাকবে না, সেখানে জোটের প্রার্থীদের জন্য ক্যাম্পেইন করা হবে।
নাহিদ ইসলাম জানান, আসন্ন নির্বাচনে প্রথমে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তাদের। তবে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে এখনো আধিপত্যবাদী শক্তি সক্রিয় রয়েছে। এসব শক্তি নির্বাচন বানচাল করতে এবং জুলাই যোদ্ধাদের নিশ্চিহ্ন করতে চায়।
এমন বাস্তবতায় বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষার স্বার্থেই এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় এসেছে। এই সমঝোতা আদর্শিক নয়, বরং রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে একটি নির্বাচনী সমন্বয়।
তিনি আরও বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় ১০ দলীয় জোটে অংশ নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। এনসিপি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নাহিদ ইসলাম জানান, ঐকমত্য কমিশনে এনসিপি দৃঢ় অবস্থানে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে। তিনি বলেন, দেশ গঠনের জন্য জুলাই সনদ অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিএনপিকেও ঐক্যের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, জোটে থাকলেও এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ আদর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এটি কোনো আদর্শিক ঐক্য নয়, বরং একটি নির্বাচনী সমঝোতা মাত্র।
তিনি জানান, সোমবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে এবং তার পরপরই নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর