ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

আমি এই এনসিপির অংশ হচ্ছি না: মাহফুজ আলম


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৯:৩৩ পিএম

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার আওতায় প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব তাঁকেও দেওয়া হয়েছিল—এ কথা স্বীকার করে মাহফুজ আলম স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি এই এনসিপির অংশ হচ্ছেন না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত ও এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার পর রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এই অবস্থান জানান মাহফুজ আলম। তিনি লেখেন, জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে তাঁকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়নি—এ কথা সত্য নয়। তবে ঢাকার কোনো একটি আসনে জোটের প্রার্থী হওয়ার চেয়ে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখাই তাঁর কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা হিসেবে পরিচিত মাহফুজ আলম ছিলেন সেই তিন ছাত্রনেতার একজন, যাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল ও সংগঠন হিসেবে পরিচিত এনসিপি ও নাগরিক কমিটিতে তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। এ মাসের শুরুতে উপদেষ্টা পরিষদ ছাড়ার পর তিনি এনসিপি থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না—সে বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। তবে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী যুক্ততা চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি আর এই দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনলেন।

ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, নাগরিক কমিটি ও এনসিপি জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল। এই দুটি সংগঠনে তাঁর জুলাই সহযোদ্ধারা থাকায় গত দেড় বছর ধরে তিনি পরামর্শ, নির্দেশনা ও নীতিগত সহায়তা দিয়েছেন।

তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই সম্পর্ক আর থাকছে না জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ ও বন্ধুত্ব অটুট থাকবে, কিন্তু তিনি এই এনসিপির অংশ হচ্ছেন না। তাঁর ভাষায়, জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার চেয়ে নিজের দীর্ঘদিনের অবস্থান ও বিশ্বাস ধরে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করে মাহফুজ আলম বলেন, নতুন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই, সামাজিক ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা, রিকনসিলিয়েশন এবং দায়-দরদের সমাজ গড়ার কথা তিনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন। এসব বিষয় তাঁর জুলাই সহযোদ্ধারাও এনসিপি ও নাগরিক কমিটি থেকে উচ্চারণ করেছেন। তবে বাস্তবে এই মূল্যবোধ কতটা ধারণ করা হয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি জানান, এনসিপিকে একটি ‘বিগ জুলাই আম্ব্রেলা’ হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে দাঁড় করানোর জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘শীতল যুদ্ধের সময়’ হিসেবে উল্লেখ করে মাহফুজ আলম বলেন, এই পর্যায়ে কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজের বক্তব্য ও নীতিতে অটল থাকাই শ্রেয়।

বিকল্প তরুণ বা জুলাই শক্তির সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, তিনি গত দেড় বছরে যে অবস্থান ও নীতির কথা বলেছেন, তা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সব ক্ষেত্রেই অব্যাহত রাখবেন। কেউ তাঁর সঙ্গে যুক্ত হতে চাইলে তিনি তাদের স্বাগত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন মাহফুজ আলম।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর