ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন হতে পারে খালেদা জিয়া


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১০:৫২ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হতে পারে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এবং পরিবারের সম্মতি ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। জানাজা ও দাফনের আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। জাতীয় পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর দাফন ও জানাজা ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ছয়টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর ইন্তিকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ একাধিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে তাঁর চিকিৎসা নেওয়া হয়েছিল। সে সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের রোগব্যাধির কারণে তিনি ধীরে ধীরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর এক মাসেরও বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিতে পারেননি।


‘দেশনেত্রী’ ও ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব। স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সংসদীয় ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একাধিকবার কারাবরণ, মামলা ও রাজনৈতিক চাপের মুখেও তিনি আপসহীন ছিলেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া সকাল ছয়টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

দাফনের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে জিয়া উদ্যানের কথা আলোচনায় থাকায় সেখানে প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। জানাজার সময় ও দাফনের স্থান চূড়ান্ত হলে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর