বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব ছিল সরল, আদর্শ এবং সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। তিনি ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম খালেদা খানম পুতুল এবং ডাক নাম ছিল পুতুল। বাবা ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা তৈয়বা মজুমদারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
ছোটবেলাতেই খালেদা জিয়ার মধ্যে শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের গুণ লক্ষ্য করা যেত। তার মা তৈয়বা মজুমদারের স্মৃতি অনুযায়ী, খালেদা মাছ খেতো না, তবে মাংস তার প্রিয় ছিল। তিনি তরকারির মধ্যে আলু ও ঢেড়শ সবচেয়ে পছন্দ করতেন। বোনদের মধ্যে সবার ছোট হওয়ায় তাকে বিশেষ আদর করা হতো। ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজে ঘর গোছগাছ করতেন এবং ছোট দুই ভাইকে নাওয়া-খাওয়া করাতে সাহায্য করতেন।
তৈয়বা মজুমদার জানান, খালেদা অন্যের কাজ খুব পছন্দ করতেন না এবং কখনো কোনো কিছুর জন্য বায়না ধরতেন না। তিনি অপচয়কে ঘৃণা করতেন এবং ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতি চর্চায় আগ্রহী ছিলেন। তিনি নাচ শিখেছেন ওস্তাদের কাছে এবং স্কুল ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে নাচে পুরস্কারও জিতেছেন। গান শুনতে ভালোবাসতেন এবং কথা বলতেন খুব কম।
শিক্ষাজীবনে খালেদা জিয়া প্রথমে মিশনারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং পরে দিনাজপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তৈয়বা মজুমদারের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গতা ছিল বেশি। অসুস্থতার সময় বা প্রয়োজন হলে তিনি সবসময় মায়ের উপস্থিতি চেয়েছেন।
রাজনীতিতে প্রবেশ করার সময় মা তৈয়বা মজুমদারের উদ্বেগ ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি বলেছিলেন, ‘‘জনগণের জন্য জামাইকে হারিয়েছি। আজ মেয়েও রাজনীতিতে নেমেছে। জানি না কী হয়। আমরা খুব উদ্বিগ্ন তার জন্য।’’
খালেদা জিয়ার শৈশবের এই অভিজ্ঞতা তার পরবর্তীতে রাজনীতিতে দৃঢ় নীতিশীল ও আপসহীন নেতৃত্ব গঠনে সহায়ক হয়েছে। পরিবার, সংস্কৃতি এবং শিক্ষার মাধ্যমে যে মূল্যবোধ তিনি শিখেছিলেন তা তার রাজনৈতিক জীবনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তৈয়বা মজুমদারের কথায়, ‘‘খালেদা ভালো খাবার পছন্দ করত, গোছানো ও পরিষ্কার থাকতে ভালোবাসত, সংস্কৃতি চর্চা এবং পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল।’’ এই শৈশবের অভিজ্ঞতা তাকে পরবর্তীতে দেশ ও জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।