ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জানাজায় মানুষের ঢল, ভালোবাসার প্রতিফলন: মির্জা ফখরুল


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৩৩ পিএম

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিকে তার প্রতি জনগণের গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই ভালোবাসা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি; এটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, নীতি ও আদর্শের ফল।

বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার জানাজায় শুধু মাঠেই নয়, আশপাশের ভবনের ছাদ থেকেও মানুষ অংশ নিয়েছে। এটি প্রমাণ করে, দেশের মানুষের হৃদয়ে তিনি কতটা গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিরল ব্যক্তিত্ব। নীতির প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি সারাজীবন লড়াই করেছেন, কারাভোগ করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন। গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি কখনো দেশ ছেড়ে চলে যাননি—এটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়ার দেশের প্রতি ভালোবাসা, মাটির প্রতি ভালোবাসা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসাই আজ এত মানুষকে নাড়া দিয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিকালে, যখন তার অভিভাবকত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক তখনই তার চলে যাওয়া মানুষকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। সে কারণেই তার জানাজায় মানুষ চোখের পানি ফেলেছে এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় একত্রিত হয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্যও একটি বড় ক্ষতি। তবে তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে দায়িত্ববোধ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করবে বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়ে গেছেন, খালেদা জিয়া সেই আদর্শকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ ও বিকশিত করেছেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তিনি ছিলেন অটল। তার সেই আদর্শ ও দর্শন আজও বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নিঃসন্দেহে খালেদা জিয়া যে রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শ রেখে গেছেন, তা তার পুত্র তারেক রহমানের ওপর যেমন দায়িত্ব বাড়িয়েছে, তেমনি দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর ওপরও দায়িত্ব বাড়িয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তারেক রহমান সেই আদর্শকে সামনে রেখে দেশকে গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বরং তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে আবেগ ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আকাশজমিন/ আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর