ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

পূর্বাচলে পুলিশের মেগা প্রজেক্ট, ৬ হাজার নতুন পদ


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৩০ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

রাজধানীর অদূরে পরিকল্পিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দেশের ইতিহাসে পুলিশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো ও জনবল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বাচলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নিরাপত্তা বলয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাবনা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো পূর্বাচল এলাকাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় আনা হবে। এখানে থাকবে চারটি থানা, ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি, ৪১টি পুলিশ বক্স, এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পুলিশ কাঠামো গড়ে তোলা হবে। এই বিশাল কাঠামো পরিচালনার জন্য ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা একক কোনো প্রকল্পে পুলিশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্বাচল নতুন শহরে ভবিষ্যতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের বসবাস হতে পারে। এখানে থাকবে সরকারি আবাসন, কূটনৈতিক এলাকা, আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক হাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবনায় শুরু থেকেই এলাকাটিকে ডিএমপির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, অপরাধ প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জরুরি সাড়া এবং ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসঝুঁকি মোকাবিলায় এই বিশাল পুলিশ অবকাঠামো অপরিহার্য। পুরো এলাকা ডিএমপির আওতায় আনতে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহরে গড়ে তোলা হবে:

একটি অপরাধ বিভাগ

একটি গোয়েন্দা বিভাগ

একটি ট্রাফিক বিভাগ

একটি পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

একটি পরিবহন বিভাগ

একটি পুলিশ লাইনস

একটি এমআইএস বা আইটি ইউনিট

দুইটি অপরাধ জোন

চারটি ট্রাফিক জোন

চারটি থানা

ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি

৪১টি পুলিশ বক্স

এই বিশাল কাঠামোর জন্য ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ এবং বিপুলসংখ্যক যানবাহন অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

একজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে শুরু থেকেই একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবনা দিয়েছে। রাজউকের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ভবিষ্যতে এখানে বিপুল জনসংখ্যা থাকবে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এলাকাটিকে ডিএমপির আওতায় এনে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ কাঠামো গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই কাঠামোর জন্য বিভিন্ন পদমর্যাদায় মোট ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়টি প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত। প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রশাসনিক পর্যায়ে পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় আছে। অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, পূর্বাচল নতুন শহর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পুলিশের জনবল সম্প্রসারণ প্রকল্প হিসেবে ধরা হবে। এছাড়া এখানে নির্মিত পুলিশ অবকাঠামো অপরাধ দমন, জরুরি সাড়া, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাজধানীর rapidly urbanizing পূর্বাচল এলাকায় এই প্রকল্প শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং ভবিষ্যতের শহর পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নিরাপত্তা সিস্টেম গড়ে তুলবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর