অনলাইন রিপোর্টার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, হাদির আজাদির লড়াই আজ থেকেই শুরু হয়েছে এবং এগারো দলীয় জোট আজাদির পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, এই লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার সংগ্রাম।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শহীদ ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার আদর্শ অনুসরণ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন বর্তমানে বিএনপির দিকে হেলে পড়েছে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার আমলের মতো আচরণ করে অফিস বাদ দিয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন। এ ধরনের আচরণ গণতন্ত্র ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। আমরা চাই না কেউ আবার গোলামীর দিকে ঝুঁকে পড়ুক।
তিনি আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার এত বছর পার হলেও সরকার এখনো খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি। এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার বড় উদাহরণ। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করতেই আজ থেকে হাদির আজাদির লড়াই শুরু করা হলো।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক জানান, এগারো দলীয় জোট এখন থেকে আজাদির জোট হিসেবে কাজ করবে। এই জোট কোনো আপসের রাজনীতি করবে না এবং কোনো ধরনের গোলামীর রাজনীতিতে জড়াবে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, শাহবাগ ও রমনা এলাকাকে আজাদির এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এই এলাকায় কোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাধীন মত প্রকাশ নিশ্চিত করতেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শুধুমাত্র আজাদির প্রচারণাই থাকবে। এখানে শাপলা কলির কোনো বিষয় সামনে আনা হবে না। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থাকবে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
তিনি আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদি যে আদর্শের জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই আদর্শ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আজাদির এই লড়াই কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দলীয় নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আন্দোলন চালানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
আকাশজমিন / আরআর