উত্তরাখণ্ডের বাঁহাতি পেসার রাজন কুমার তিনটি নিষিদ্ধ ড্রাগ বা পদার্থের পরীক্ষায় পজিটিভ প্রমাণিত হয়েছেন। তিনি সর্বশেষ ২০২৫ সালের সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে খেলেছিলেন। সোমবার (৬ জানুয়ারি) পিটিআই-এর প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা গেছে, ন্যাশনাল অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (NADA) তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
ক্রিকেট জগতে ডোপিংয়ের ঘটনা সাধারণত বিরল হলেও ভারতের জন্য এটি উদ্বেগজনক। এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের হাই-প্রোফাইল ব্যাটার পৃথ্বী শ নিষিদ্ধ পদার্থ ‘টারবুটালিন’ সেবনের দায়ে আট মাসের জন্য নিষিদ্ধ ছিলেন। পৃথ্বীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, তিনি ভুলবশত কাশির সিরাপে ওই পদার্থটি গ্রহণ করেছিলেন।
২৯ বছর বয়সী রাজন কুমার-এর নমুনায় অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ড্রস্টানলোন ও মেটেনলোন পাওয়া গেছে। এছাড়া তার নমুনায় ক্লোমিফেন পাওয়া গেছে, যা সাধারণত নারীদের বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।
ডোপিং রেকর্ডের দিক থেকে ভারতের অবস্থান বেশ উদ্বেগজনক। ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির (WADA) বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত টানা তিন বছর ডোপিং লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত পরীক্ষা ও সতর্কতার অভাবে ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহারের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই ঘটনার পর রাজন কুমার-এর খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের উপর অস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। NADA তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে, তবে আনুষ্ঠানিক শাস্তি নির্ধারণের জন্য আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিয়মিত শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম ছাড়া ভারতীয় ক্রিকেটে ডোপিং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ডোপিং-এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাজন কুমার-এর এই ঘটনায় ক্রিকেট জগত এবং বিশেষত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) দিক থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। WADA ও NADA-র নিয়ম অনুযায়ী, নিষিদ্ধ পদার্থ সেবনের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়ের দায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।