সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন নির্ধারিত দাম আগামী ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে দেশের সব জুয়েলারি বাজারে কার্যকর হবে।
বাজুস জানায়, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইসডটওআরজি সূত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৪৫ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।
সোনার দামের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯২৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব সোনার দামের ওপর পড়ছে। ফলে স্বর্ণের দাম বারবার বাড়ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দাম বাড়ার ফলে স্বর্ণের বিক্রি কিছুটা কমতে পারে। তবে বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি মানুষের আগ্রহ আগের মতোই থাকবে বলে তারা আশা করছেন।