অনলাইন রিপোর্টার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চসংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠানোর কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইইউর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। বুধবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
ইইউর ডেপুটি চিফ এবং ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আলোচনার মূল বিষয় ছিল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং রোহিঙ্গা সংকট। তিনি জানান, ইইউ প্রতিনিধিদল এই নির্বাচনে সর্বোচ্চসংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, কারণ পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলো পর্যাপ্ত অংশগ্রহণমূলক ছিল না।
ডা. তাহের বলেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। গত ৫৫ বছরে দেশের রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অভাব। বর্তমান বাস্তবতায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সংকট আরও গভীর হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে নিরপেক্ষতার অভাব দেখা যাচ্ছে। একটি দলের প্রতি প্রশাসনিক আনুগত্য ও ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা আগামী নির্বাচনকে পাতানো নির্বাচনে পরিণত করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডা. তাহের বলেন, অতীতের মতো পাতানো নির্বাচন হলে দেশ ধ্বংসের দিকে যাবে। এ অবস্থায় সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে আলোচনা করে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডা. তাহের বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে শুধু সরকার বা নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও পারস্পরিক সমঝোতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সব দলের সঙ্গে মতবিনিময়ের পক্ষে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারেক জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসুক না কেন, দেশের স্বার্থে একটি কমন বোঝাপড়া থাকা জরুরি। জামায়াত যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তাহলে শক্তিশালী বিরোধীদল থাকবে এবং জোটের শরিকরাও সরকারে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা একক দলীয় সরকার হবে না।
নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, একজন প্রার্থী যদি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা পান, অন্যদের ক্ষেত্রেও তা নিশ্চিত করা উচিত। ভোটার হওয়ার সুযোগ, প্রশাসনিক সহায়তা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৈষম্য হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।