ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক এখন উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চলমান বিপিএলের সঞ্চালক প্যানেল থেকে ভারতীয় উপস্থাপিকা রিধিমা পাঠককে সরিয়ে দিয়েছে। এই পদক্ষেপ আসছে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে।
রিধিমা পাঠক পাকিস্তানের জয়নব আব্বাসের সঙ্গে এবারের বিপিএলে পরিচিত মুখ হিসেবে ছিলেন। তিনি ভারতের ক্রীড়া সম্প্রচারে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। তবে তার বিপিএল থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর রিধিমা নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গত কয়েক ঘণ্টা ধরে বলা হচ্ছে আমাকে বিপিএল থেকে ‘বাদ’ দেওয়া হয়েছে। এটি সত্য নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার কাছে দেশের প্রতি দায়িত্ব সবসময় আগে আসে। আমি যেকোনো নির্দিষ্ট অ্যাসাইনমেন্টের চেয়ে ক্রিকেট খেলাকে বেশি মূল্যায়ন করি। বছরের পর বছর ধরে আমি সততা, সম্মান এবং প্যাশনের সঙ্গে এই খেলার সেবা করেছি। সেটির কোনো পরিবর্তন হবে না। আমি সততা, স্বচ্ছতা এবং খেলার চেতনার পক্ষে সবসময় থাকব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যারা সমর্থন জানিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ। আপনারা যে বার্তা পাঠিয়েছেন, তা আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট সত্যটা পাওয়ার দাবি রাখে। এটুকুই। আমার পক্ষ থেকে আর কোনো মন্তব্য নেই।”
মুস্তাফিজকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গত ৩ জানুয়ারি বিসিসিআইর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজকে বাদ দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সঞ্চালক প্যানেলেও। বাংলাদেশ আসন্ন আইপিএল সম্প্রচার না করার ঘোষণা দিয়েছে এবং বিশ্বকাপে ভারতীয় ভেন্যুতে খেলা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিসিবি আইসিসিকে জানিয়েছে, ভারতে খেলার পরিবর্তে তাদের ম্যাচগুলো অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে শোনা যাচ্ছে, আইসিসি বাংলাদেশকে জানিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে হলে ভারতীয় ভেন্যুতে খেলতেই হবে, নয়তো ওয়াকওভার করতে হবে। এই নির্দেশের ফলে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও জটিলতা তৈরি করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, খেলোয়াড় এবং উপস্থাপকদের নিরাপত্তা ও সমর্থন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইসিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে এবং নিরাপত্তা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।
উল্লেখযোগ্য, রিধিমা পাঠকের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ভক্তদের প্রশংসা কাড়ছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের সততা ও স্বচ্ছতার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারকে প্রভাবিত করবে না।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আসন্ন টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
আকাশজমিন / আরআর