ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

চবিতে চাকসু নেতাদের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত


  • আপলোড সময় : শনিবার ১০ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:১১ পিএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চাকসুর নেতাদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকসুর চার নেতার নেতৃত্বে ওই শিক্ষককে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে তাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাঁর মুঠোফোনও তল্লাশি করা হয়।

হেনস্তার শিকার শিক্ষক হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংগঠন হলুদ দলের একাংশের সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর। বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত তিনি প্রক্টর অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। সেখানে প্রক্টরিয়াল বডি ও চাকসুর নেতারা তাঁর মুঠোফোন তল্লাশি করছিলেন।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এক মিনিট সাত সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে একজনকে পেছন থেকে তাঁকে চেপে ধরতেও দেখা যায়। সেখানে চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি এবং নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমানকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষক হাসান মোহাম্মদকে চিৎকার করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে তাঁকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

প্রক্টর অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাঁকে জানান যে পরিস্থিতি ভালো নয়। এ কারণে তিনি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় চাকসুর নেতারা চিৎকার-চেঁচামেচি করলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে দৌড় দেন। এরপরও তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মব তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং জোর করে প্রক্টর অফিসে আনা হয়েছে। সেখানে তাঁর মুঠোফোন তল্লাশি করা হচ্ছে, যা একজন শিক্ষকের জন্য চরম অবমাননাকর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে থাকাকালীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও তিনি সরাসরি গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের তদন্ত চলছিল।

ফজলে রাব্বি বলেন, তদন্ত চলাকালে একজন অভিযুক্ত শিক্ষক কীভাবে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন—এই বিষয়টি জানার জন্য তাঁরা আইন অনুষদের ডিনের সঙ্গে কথা বলতে যান। তাঁদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ওই শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করেন। দৌড়ানোর সময় তিনি একটি গাছের গুঁড়িতে আঘাত পেয়ে পড়ে যান।

একই দাবি করেন চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, ‘তাঁকে কোনোভাবেই মারা হয়নি। আমরা আইন অনুষদে পরিদর্শনের সময় তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে যাই। তিনি আইন অনুষদের গ্যালারির পেছন দিয়ে দৌড়ানোর সময় ব্যথা পান।’

অন্যদিকে প্রক্টর অফিসে অবস্থানের সময় জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আমি এক দিনের জন্যও বের হইনি। কোনো দায়িত্বেও ছিলাম না। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মৌন মিছিল হয়েছিল, সেখানেও অংশ নিইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনোই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার সংক্রান্ত কোনো বোর্ডের সদস্য ছিলাম না। সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি কাউকে মামলা দিইনি।’

পরীক্ষার দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী মো. ইকবাল শাহীন খান বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তদন্ত চলাকালীন তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট থেকে শিক্ষককে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত না আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাঁদের কাছে একজন বৈধ শিক্ষক। এ কারণেই তাঁকে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ আগের সব পরীক্ষাতেই দায়িত্ব পালন করেছেন। হট্টগোলের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে তাঁর মুঠোফোন তল্লাশি করা হচ্ছে এবং সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর বেতন বন্ধ রয়েছে। কীভাবে তিনি ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পেলেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর