ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্ল্যাট বা প্লট কেনার জন্য চার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:১৮ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

বাংলাদেশে নিজের ফ্ল্যাট বা প্লট কেনার স্বপ্ন অনেকের জীবনের বড় আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু এই স্বপ্ন পূরণে প্রাথমিক সঞ্চয় যথেষ্ট নয়; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আবাসন ঋণ নেওয়া প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন অনেক ব্যাংক চার কোটি টাকা পর্যন্ত আবাসন ঋণ দিতে পারছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে আবাসন খাতে ঋণ ও মূলধনের অনুপাত ৭০:৩০। অর্থাৎ, এক কোটি টাকার ফ্ল্যাটে ব্যাংক সর্বাধিক ৭০ লাখ টাকা ঋণ দেবে, বাকি ৩০ লাখ টাকা গ্রাহককে দিতে হবে। তবে কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুরো টাকাই ঋণ দিতে সক্ষম।

আবাসন ঋণ পেতে হলে ঋণগ্রহীতার বয়স কমপক্ষে ২২ বছর হতে হবে এবং ঋণ পরিশোধের সময় পর্যন্ত বয়স ৬৫ বছরের বেশি হতে পারবে না। চাকরিজীবীদের মাসিক আয়ের কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা হতে হবে। ব্যবসায়ী ও বাড়িওয়ালা গ্রাহকরাও আবাসন ঋণ নিতে পারবেন।

ঋণ গ্রহণের জন্য কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন। ফ্ল্যাট বা জমি কেনার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, অনুমোদিত নকশা ও অনুমোদনপত্রের সত্যায়িত কপি, ফ্ল্যাট কেনার রেজিস্ট্রিকৃত বায়না চুক্তিপত্রের মূল কপি ও বরাদ্দপত্র, বাড়ি নির্মাণের জন্য অনুমোদিত নকশা, মূল দলিল, নামজারি খতিয়ান ও খাজনা রসিদের সত্যায়িত কপি, সিএস, এসএ, আরএস, বিএস খতিয়ানের সত্যায়িত কপি, ১২ বছরের তল্লাশিসহ নির্দায় সনদ (এনইসি) এবং সরকার বরাদ্দকৃত জমির ক্ষেত্রে মূল বরাদ্দপত্র ও দখল হস্তান্তরপত্র প্রযোজ্য।

মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণে স্থায়ী সম্পদ জামানত রাখতে হয়। সাধারণত জমির দলিল জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়। এই ঋণের মেয়াদ ৫ থেকে ২০ বছর বা তার বেশি হতে পারে। মর্টগেজ ঋণ নেওয়ার জন্য কর দেওয়ার সনদ, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক বিবরণী, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জামিনদারের কাগজপত্র ও বেতনের সনদ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গত সেপ্টেম্বরের তথ্যানুযায়ী, চার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ছয়টি ব্যাংক: সিটিজেনস ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক।

৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ১১টি ব্যাংক: মিডল্যান্ড ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংক।

অন্যান্য ব্যাংক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করবে। আবাসন খাতের ঋণ দেওয়া শীর্ষ ব্যাংকগুলোর মধ্যে সিটি ব্যাংক অন্যতম। সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অরূপ হায়দার বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে আবাসন খাত চাঙা হবে। গ্রাহকেরা এখন তুলনামূলক কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন।’

এছাড়া ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে ঋণ দেয়। স্থায়ী আয়ের সঙ্গে সঞ্চয়ের হিসাব বিবেচনা করা হয়। ব্যাংক ঋণ গ্রহণকারীকে বিভিন্ন ঝুঁকি ও শর্ত সম্পর্কেও অবহিত করে। ফলে গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে পারে।

ফ্ল্যাট বা প্লটের বাজারেও ঋণের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। ব্যাংক ঋণ সহজলভ্য হলে মানুষ বেশি বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়, যা রিয়েল এস্টেট খাতের চাহিদা বাড়ায়। বিশেষ করে বড় শহর ও উন্নয়নশীল এলাকায় এই ঋণ গ্রহণে আগ্রহ বেশি।

উপসংহারে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতি অনুযায়ী চার কোটি টাকার ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ থাকায় মধ্য ও উচ্চ আয়ের মানুষও স্বপ্নের ফ্ল্যাট বা প্লট কিনতে পারবে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকের সক্ষমতা অনুযায়ী ঋণ দেয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ নিশ্চিত করে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর