ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির গুলি, শিশু নিহত


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:২২ পিএম

কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে মায়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে আফনান (১০) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। নিহত আফনান হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ এলাকার জসিম উদ্দীনের মেয়ে এবং লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

ঘটনাটি রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ঘটেছে। ৬৪-বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আফনানের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বড় ধরনের শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নিহত স্কুলছাত্রী আফনানের গ্রামের মানুষ এবং স্কুলের সহপাঠীরা এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং পুলিশ-সেনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

জানা গেছে, টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ওই সময় দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরসার মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। গত তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলিতে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের ওপারের সংঘর্ষ এবং গুলিতে আশেপাশের গ্রামগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সীমান্তের ওপারের মানুষ ছাড়াও বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী এলাকা যেমন হোয়াইক্যং ও আশেপাশের গ্রামবাসী প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নিরাপত্তার কারণে পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে।

বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা জানান, গুলিবর্ষণ বন্ধ করতে সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চৌকস রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের সনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে সীমান্তের ওপারের সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি এখনও খুবই জটিল এবং অনিশ্চিত।

স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি জেলায় জনগণকে অনুরোধ করেছেন, দয়া করে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখুন এবং সড়ক অবরোধের কারণে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করুন। তারা জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় বাড়ির মধ্যে থাকা এবং শিশুদের নিরাপদে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় স্কুল ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলছেন, নিরাপত্তার কারণে স্কুল খোলা হলেও অনেক শিশু স্কুলে যেতে পারছে না। তারা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্ত করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ এবং শিশুদের প্রাণহানির ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব হয়। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, নিয়মিত সীমান্ত পাহারা, নজরদারি এবং সতর্কতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে।

সর্বশেষ, এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম সম্পর্কে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনও জানিয়েছে, তারা সীমান্তে সশস্ত্র হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রতিরক্ষা এবং নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করবে।

ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আহতদের চিকিৎসা এবং নিহত কিশোরীর পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের হামলার ঘটনায় নিয়মিত তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা নিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন রক্ষার জন্য সরকার এবং প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও নারীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা আবশ্যক।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর