ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

ঢাকায় গ্যাস সংকট চরমে, বেড়েছে ইলেকট্রিক চুলার চাহিদা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:১৭ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

শীতকাল এলেই রাজধানীতে গ্যাসের চাপ কমে যায়। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতেই গ্যাসের সংকট চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ৭ জানুয়ারি তুরাগ নদীর নিচে পাইপ লাইনের লিকেজের কারণে ঢাকার অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ তীব্রভাবে কমেছে। একই সঙ্গে এলপিজি সিলিন্ডারেরও ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি সুযোগ বানিয়ে কিছু ব্যবসায়ী বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এ কারণেই নগরবাসী এখন ইলেকট্রিক চুলার দিকে ঝুঁকছে। শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বিভিন্ন শীতকালীন ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইনডাকশন, ইনভার্টার ও ইনফ্রারেড চুলার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চাহিদা এতটাই বেশি যে, অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা পণ্য কিনতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক পণ্যের স্টক শেষ হয়ে গেছে।

লক্ষ্মীবাজারের বিভিন্ন শোরুমে মানভেদে পণ্যের দামে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। আরএফএলের ‘বেস্ট বাই’ শোরুমে দেখা যায়, ভিশনের ইনডাকশন চুলা ৩ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইনফ্রারেড চুলা, যেখানে যেকোনও ধরনের পাতিল ব্যবহার করা যায় এবং যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সেটির দাম ৪ হাজার ১০০ টাকা।

শোরুমটির সেলস এক্সিকিউটিভ শুভ দাস জানান, বর্তমানে ভিশনের রাইস কুকারের স্টক শেষ হয়ে গেছে। ভিশনের রাইস কুকারের দাম লিটারভেদে ৩ হাজার ৭৭০ থেকে বিভিন্ন দামে পাওয়া যায়। স্বাভাবিক সময়ে এখানে মাসে ১০–২০টি রাইস কুকার বিক্রি হতো। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে এখন শতাধিক বিক্রি হচ্ছে। তবুও পণ্যের দাম বাড়েনি।

শীতকালীন পণ্যের মধ্যে ভিশনের ইলেকট্রিক কেটলি ও রুম হিটারের চাহিদাও বেড়েছে। কেটলির দাম ২ হাজার ৩৯০ টাকা এবং রুম হিটার ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ সময় রুম হিটার কিনতে আসা নাজনীন নামের এক ক্রেতা স্টক না থাকায় ফিরে যান। শুভ দাস বলেন, “শীত বাড়ায় প্রতিদিনই অনেক ক্রেতা পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।”

বেঙ্গল গ্রুপের ‘হ্যাপি মার্ট’ শোরুমে দেখা গেছে, গাজীর প্রিমিয়াম মানের ইনভার্টার চুলা ৮ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্য একটি ইনডাকশন চুলার দাম ৪ হাজার ৮০০ টাকা। শোরুমের এক সেলসম্যান জানান, গ্যাস সংকটের কারণে এসব চুলার বিক্রি শতাধিক ছাড়িয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। চাহিদা বেড়লেও দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মান ভালো হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি।

লক্ষ্মীবাজারের ‘র‌্যাং গস ই-মার্টে’ ভারতীয় ব্র্যান্ড হ্যাভেলসের ইনডাকশন চুলার দাম ৫ হাজার ৮০০ টাকা। শোরুমে থাকা ক্রেতা আনোয়ার জানিয়েছেন, এত দাম হলেও চাহিদা রয়েছে। শীতের কারণে রুম হিটারও স্টক আউট হয়ে গেছে। ভারতীয় মিয়াকোর রুম হিটারের দাম ৫ হাজার টাকার বেশি হলেও সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না। জাপানি ব্র্যান্ড প্যানাসনিকের রাইস কুকার ৬ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও চাহিদা কমেনি।

এছাড়া গ্যাস সংকট ফুটপাতের চায়ের দোকানেও দেখা গেছে। পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার মোর সংলগ্ন কয়েকটি চায়ের দোকানে ইলেকট্রিক চুলা দিয়ে চা গরম করে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এখানকার চা বিক্রেতা সবুজ বলেন, “গ্যাস পাওয়াই যায় না। আবার দামও বেশি। ব্যবসা চালাতে হবে। তাই ইলেকট্রিক চুলা কিনে চা বানাচ্ছি। গ্যাসের ঝামেলার পর থেকে এভাবেই চলছি।”

ঢাকার নিম্ন আদালত এলাকা রাজার দেউরীতে নিজ বাসায় খাবার রান্না করে বিক্রি করেন রাবেয়া খানম। সিলিন্ডার গ্যাস সংকটের কারণে তিনি অনেক বিড়ম্বনা পোহাচ্ছেন। তিনি বলেন, “গ্যাসের দাম টিভিতে দেখায় ১ হাজার ৩০০ টাকা, কিনতে গেলে দেখি ২ হাজার ৭০০ টাকা। তাও পাওয়া যায় না। কয়দিন ধরে রান্না করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে।”

বর্তমানে নগরবাসীকে গ্যাসের বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে। বৈদ্যুতিক চুলা, ইনডাকশন, ইনভার্টার, ইনফ্রারেড চুলা ও কেটলির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে স্টক প্রায় শেষ। বিশেষ করে রুম হিটার ও রাইস কুকারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, “চাহিদা বেড়েছে, তাই ক্রেতাদের অনেক সময় পণ্য না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। তবে দাম স্বাভাবিক রয়েছে।”

এই পরিস্থিতি শীতকালীন বাজারে বৈদ্যুতিক পণ্যের বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মানসম্পন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের ওপর চাহিদা বেড়ে গেছে। নগরবাসীরা গ্যাস সংকটকে সুযোগ হিসেবে দেখে ইলেকট্রিক চুলার দিকে ঝুঁকছে।

আকাশজমিন / আরআর 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর