অনলাইন রিপোর্টার
বাংলাদেশে আসছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই সোনালী ট্রফিকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পাবেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। তবে এই আনন্দের সময়টা খুব বেশি দীর্ঘ নয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্যই ঢাকায় অবস্থান করবে বিশ্বকাপ ট্রফিটি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিশ্বকাপ ট্রফিবাহী বিমান ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ট্রফিটি ঢাকায় অবস্থানকালে গুলশানের হোটেল রেডিসন ব্লুতে রাখা হবে। সেখানে সীমিত পরিসরে আমন্ত্রিত অতিথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ট্রফিটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন। সাধারণ দর্শকদের জন্য এই আয়োজন সীমিত হওয়ায় অনেক ফুটবল ভক্তই সরাসরি ট্রফি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ট্রফির অবস্থানকাল মাত্র আট ঘণ্টা। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ট্রফিটি আবারও পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে ফুটবলপ্রেমীদের বহু কাঙ্ক্ষিত এই আয়োজন।
আগামী বছরের ১১ জুন পর্দা উঠবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করা হবে তিনটি দেশ—কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ৪৮টি দল। দলসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ম্যাচসংখ্যা ও ভেন্যুর পরিসরও বেড়েছে, যা বিশ্বকাপকে করেছে আরও বড় ও বর্ণিল।
৪৮টি দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করেছে ফিফা। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল। ইতোমধ্যে গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। ড্র অনুযায়ী সি গ্রুপে পড়েছে পাঁচবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এই গ্রুপে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি পড়েছে ‘ই’ গ্রুপে। তাদের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে ইকুয়েডর, কোত দি ভোয়া এবং কুরাসাও। শক্তিশালী দল ফ্রান্স পড়েছে ‘আই’ গ্রুপে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জায়গা করে নিয়েছে ‘জে’ গ্রুপে। অন্যদিকে পর্তুগাল পড়েছে ‘কে’ গ্রুপে, যেখানে দলটির নেতৃত্বে থাকবেন তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। আর ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। তিনটি আয়োজক দেশের মোট ১৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, মায়ামি, নিউইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকো, আটালান্টা, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া ও সিয়াটল। কানাডা থেকে ভ্যানকুভার ও টরন্টো এবং মেক্সিকো থেকে মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্টেরে শহরে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচ। সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক স্মরণীয় বিশ্বকাপ।
আকাশজমিন / আরআর