২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। ঠিক এই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিতর্কিত ভিসা নীতি বিশ্বকাপের আয়োজন ও দর্শক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এই ঘোষণার ফলে ফুটবল ভক্ত, খেলোয়াড় এবং আয়োজকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভিসা স্থগিতাদেশের তালিকায় এমন ৭৫টি দেশ রয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি দেশ ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এতে ব্রাজিল, উরুগুয়ে, কলম্বিয়া, মরক্কো এবং সেনেগালের মতো শক্তিশালী ফুটবল দেশগুলো রয়েছে। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে হাইতি, আলজেরিয়া, মিশর, ইরান ও জর্ডানের মতো দেশ। বিশেষ করে ‘গ্রুপ সি’-তে থাকা ব্রাজিল, মরক্কো ও হাইতি—এই তিন দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর দর্শক উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, এই পদক্ষেপ মূলত স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্টদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে যারা সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যেতে পারে, তাদের প্রবেশ সীমিত করার উদ্দেশ্য এই পদক্ষেপ।” প্রশাসন পর্যটন বা স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয় বললেও বাস্তবে ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, নীতিমালার অস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং অতিরিক্ত কড়াকড়ির কারণে সাধারণ দর্শকরা সঠিক সময়ে ভিসা পাবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে আয়োজক শহরগুলোতে, বিশেষ করে ফক্সবরো এবং মায়ামিতে, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর দর্শক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলো এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে। গ্যালারি ফাঁকা থাকলে স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি, টিকিট বিক্রয় ও পর্যটক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। ভক্তরা অনিশ্চয়তার কারণে আগে থেকে যাত্রা ও টিকিট সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন। কনস্যুলেটে দীর্ঘসূত্র প্রক্রিয়ার কারণে ভিসা প্রাপ্তির সময়সীমা বিলম্বিত হচ্ছে, যা দর্শক উপস্থিতি কমাতে পারে।
বিশ্বকাপ আয়োজকরা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ না করলেও, আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং ফুটবল সমর্থকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, মার্কিন অভ্যন্তরীণ মেমো অনুযায়ী, এই দেশগুলোর নাগরিকদের স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনির্দিষ্টকাল স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে মূল পর্বে অংশগ্রহণকারী দেশের নাগরিকদের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বকাপের আয়োজকরা আশা করছেন, মার্কিন প্রশাসন পর্যটন ও স্টুডেন্ট ভিসা ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রক্রিয়া চালু রাখবে। তবে ফুটবল ভক্ত, সাংবাদিক এবং ভেন্যু কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, সিকিউরিটি এজেন্সি এবং স্টেডিয়ামের কর্মকর্তারা দর্শক ও দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দর্শক উপস্থিতির অনিশ্চয়তা তাদের পরিকল্পনায় জটিলতা তৈরি করছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যবসায়িক অংশীদারও সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য পূর্বে থেকেই সতর্ক।
ভিসা স্থগিতাদেশের প্রভাবে বিশ্বকাপের আয়োজনে মার্কিন প্রশাসনের কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সমর্থক ও আয়োজক দেশগুলোর সমন্বয় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিভিন্ন শহরে প্রস্তুতি, দর্শক আসন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও যাতায়াতের পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।
বিশ্বকাপের খেলা শুরু হওয়ার আগে ভিসা নীতি নিয়ে রাজনৈতিক, ক্রীড়া ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ তীব্র হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায়ের জন্য বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটক এবং স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই।
যদিও এই নির্দেশিকায় প্রাথমিকভাবে স্থায়ী আবাসন আবেদনকারীদের প্রভাব পড়বে, বাস্তবে এ সিদ্ধান্তের বিস্তৃত প্রভাব ফুটবল ভক্ত ও আয়োজক উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। এখন পর্যন্ত স্পষ্টতা না থাকায় বিশ্বকাপের আনন্দ এবং আয়োজনে অনিশ্চয়তার ছায়া নেমেছে।
বিশ্বকাপের আয়োজনকারীরা মনে করছেন, ভিসা স্থগিতাদেশ দ্রুত সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক দর্শক উপস্থিতি কমতে পারে, যা খেলাধুলার জৌলুস এবং আয়োজক শহরের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আকাশজমিন / আরআর