সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 142
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় স্ত্রী হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে প্রায় একযুগ পর গ্রেফতার করেছে তাড়াশ থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা ওই আসামির নাম মানিক মিয়া (৪৫)। গ্রেফতারের পর শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের বাসন থানা এলাকা থেকে মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত করে বিশেষ একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
মানিক মিয়া সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছহির উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ জানায়, ২০০৮ সালে বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় তিনি তার নববধূ স্ত্রী মালিহা খাতুন (২০) কে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকেন।
এই ঘটনায় নিহত মালিহা খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে গড়ায়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৪ সালে আদালত মানিক মিয়াকে স্ত্রী হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে রায় ঘোষণার আগেই তিনি আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সাজা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, রায়ের পর থেকে মানিক মিয়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে অবস্থান করে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি নিয়মিতভাবে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
উল্লাপাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো: আসাদুজ্জামান শাকিল ও তাড়াশ থানা অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো: হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এস.আই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পর অভিযানটি সফল হয় বলে জানায় পুলিশ।
তাড়াশ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান জানান, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেফতারের মাধ্যমে একটি পুরোনো ও চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কার্যক্রমের পূর্ণতা এসেছে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ আরও জানায়, পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকলেও শেষ পর্যন্ত কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পায় না—এই গ্রেফতার তারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর হলেও ন্যায়বিচার কার্যকর হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।